দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ৩ জুলাই ২০১৯


কাফকার জন্মদিন৷ কাফকার বই নিয়ে এদেশে ভালরকম বাণিজ্য করেছে একটা প্রতিষ্ঠান৷ প্রতিষ্ঠানের চরিত্রই এমন৷ শিল্পীর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে চতুর বাণিজ্য নতুন কিছু না৷ বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠানগুলো যুগে যুগে এটাই করেছে৷ শিল্পীর জীবদ্দশায় তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে নারাজ, সম্মান দেবে সেইসব তথাকথিক শিল্পী নামক ল্যাপডগকে, যারা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সব করতে পারে৷ আর প্রকৃত শিল্পীর মৃত্যুর পর শুরু হয় তাঁর লাশ নিয়ে বাণিজ্য৷ ‘রকস্টার’ নামে একটা সিনেমা দেখেছিলাম৷ সেখানে এক মিডিয়া হাউজের মালিক একজন রকস্টারের অ্যালবাম বের করে৷ রকস্টার একটা ব্যক্তিগত মামলায় জেলে যায়৷ তখন প্রডিউসার বলে, ‘আর্টিস্ট জেলের ভেতর৷ আর অ্যালবাম জেলের বাহিরে৷ এইটাই অ্যালবাম প্রকাশ করার মোক্ষম সময়৷ আর্টিস্টকে জেল থেকে বের করার দরকার নাই৷ ও জেলে থাকলে পাব্লিক অ্যালবাম বেশি খাবে৷…’

পহেলা আষাঢ় বিন্দুর ওয়েবসাইটে বর্ষার কবিতা প্রকাশ করে যখন ঘুমাতে গেলাম তখন সূর্য চলে এসেছে৷ ঘুম ভাঙলো দুপুরে৷ মোবাইল হাতে নিলাম৷ দেখি লিংকন ভাই মেসেজ করেছে, ‘ভাই তোর বর্ষার কবিতা পড়ে আমি অভিভূত৷ ঘুমাচ্ছিস জানি৷ ঘুম ভাঙলে কল দিস৷’ কল পরে দিলাম৷ তার আগে রিপ্লাই দিলাম, ‘অভিভূত হয়েছেন যেহেতু— চা খাওয়ান৷’ হা হা৷ জানি এটা সম্ভব নয়৷ দূরত্ব চারশত কিলোমিটারের৷ 

এক মধ্যবয়স্ক অনুবাদকের কবিতা পড়তেছিলাম৷ মনে হচ্ছিলো, অনুদিত কবিতাই পড়ছি৷ কী একটা অবস্থা!

‘মধ্যরাতের নোটবুক’ নামে একটা ‘না–কবিতা’ / ‘না–গদ্য’ লিখেছিলাম ২০১৬ এ৷ ২০১৭ এ জিললুর রহমানের লিটলম্যাগ ‘যদিও উত্তরমেঘ’ সেটার অনেকখানি প্রকাশ করে; এখন অনলাইনে সেটা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করতে শুরু করেছে অনলাইন লিটলম্যাগ ‘ওয়াকিং ডিসট্যান্স’৷ তারা হয়তো পুরোটা প্রকাশ করবে৷ কোনো একদিন এটা পুস্তকাকারে প্রকাশ করবার ইচ্ছে আছে৷

সারাদিন এত রোদ থাকে, বাইরের স্বাভাবিক কাজগুলো ঠিকমতো করা যায় না৷ তামিলনাড়ুতে লোকে আসবাবপত্র বিক্রি করে জল কিনছে! দিনাজপুরে ১৯টি পুকুর শুকিয়ে গেছে৷ কুয়েতে রৌদ্রতাপে গাড়ির গ্লাস গলে যাচ্ছে! আমার বাঙলাদেশকেও এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে৷ এখানে রৌদ্রতাপে মানুষের চামড়া গলে যাবে, শরীরের মাংস খুলে পড়বে৷

0 comments: