দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ১ ও ২ জুলাই ২০১৯


মাথার উপরে ঘুরতে থাকা পাখা, তার সাথে নিজের দূরত্ব কমিয়ে নিলাম আজ। দূরত্ব কমলে ভালো লাগে। উপস্থিতির আনন্দ পাওয়া যায়।

পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘পদ্য পাগলের পাণ্ডুলিপি’ বইখানা থেকে দু’টো গদ্য পড়লাম। এই বইয়ের গদ্যগুলোর বৈঠকী ঢঙটা আমার ভালো লাগে। কখনো আছে ডায়েরী লেখার ধাঁচ। অনেক আগে এটি কিনেছিলাম। কিন্তু পড়ে শেষ করিনি। এই বই আমি শেষ করতে চাই না। চাই, এটি পড়তেই থাকি — পড়তেই থাকি, দীর্ঘদিন সময় নিয়ে। তাই মাঝে মাঝে যখন খুব ইচ্ছে করে, বইটি বের করি, এক/দুইটা গদ্য পড়ি, আবার যথাস্থানে রেখে দিই।

আট তারিখ আবারও যেতে হবে কারমাইকেল। বাজে অভিজ্ঞতা। অবশ্য একাডেমি মানেই বাজে অভিজ্ঞতা সম্ভবত বাঙলাদেশে। বিদেশের অবস্থা সর্বত্র এমন নয় বলেই জানি। ধরেন, সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তালিকা কে যেন করেছিলো, সেখানে তো বাঙলাদের অস্তিত্বই নাই, অথচ পাকিস্তান আছে! বোঝেন অবস্থা!

‘বিদেশ’ এর কথা বলতে মনে পড়লো, কবি নাভিল মানদারের একটা কবিতা পড়েছিলাম এবারের জঙশনে, সেখানে উনি একটা শব্দ ব্যবহার করেছেন ‘বিগ্রাম’। আমি বুঝতে পারিনি প্রথমে। পরে ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো, নিজ দেশের বাইরে হলে যেমন ‘বিদেশ’, তেমনই নিজ গ্রামের বাইরে হলে ‘বিগ্রাম’৷ দারুণ না ব্যাপারটা? কবির আবিষ্কার।

জুলাই আমার জন্য অন্য মানে রাখে। ‘তোমাকে’ শিরোনামে একটা সিরিজ কবিতা লিখেছিলাম, সম্ভবত চার বা পাঁচ খণ্ডে। তার প্রথমটিতে শেষ পংক্তিমালা এরকম, ‘জুলাইয়ের কোনও এক সকালে / আমি জন্ম নিলাম শব্দ থেকে / আর আমার সামনে উন্মোচিত / হলো পৃথিবীর প্রবেশদ্বার।’ পৃথিবীতে আমার জন্ম হয় ডিসেম্বরে। অথচ জুলাইয়েও শব্দ থেকে আমি জন্ম নিয়েছি দ্বিতীয়বার। মানুষ তো বারবার জন্ম লাভ করে, ভিন্ন ভিন্ন রূপে— ভিন্ন ভিন্ন দিনে!...



0 comments: