মধ্যরাতের নোটবুক

ছবিঃ Chagall_Marc_Le_Quaide_Bercy (সংগৃহীত)

০৭১০১৬
মাথার উপরে পৃথিবীময় পাখাটি ঘুরতে ঘুরতে বেলা বাড়ছে, আমার ভয় করছে।

তোমার ডানা কি আমরাই ব্যাবহার করি? যখন মন চায়, চালু করতে অথবা যখন মন চায় না, বন্ধ করতে পারি?

এমন অনুভূত হয়, যেন এক অধিভৌতিক পাখা। পঙ্ক্ষীরাজের ডানা। অনেক দূরের প্রজাপতি হয়ে উড়ে যাওয়া সেই ঘোড়া, ভালোবাসার প্রিয় ম্যাডহর্স।


০৮১০১৬
 এক ধরনের বোকা বোকা দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাচ্ছি। তীব্র শব্দে দীর্ঘ বিরতি নিয়ে আওয়াজ আসছে।

আমার বুক কেঁপে ওঠে। শরীরে নাড়া দেয়।

গতজন্মে কারা যেন আতঙ্কবীজ পুঁতে দিলো; আমার কিচ্ছু মনে নাই। সেই থেকে বেড়ে উঠলো, তার লকলকে ডগা গজালো। আমার কোনও স্মৃতি জাগলো না; না প্রেমের, না কামের।

আমি সেই জন্মবধির, পুরোনো ভঙ্গিতে পোষা দুঃখগুলো খাঁচা থেকে বের করে ময়দানে খেলা দেখাই।


১০১০১৬
এমন অদ্ভূত ছায়া তোমার, এই সময়ে। এখনও জানি না দৈনিক কতোটা মৃত্যু গজালো, কতোটা জন্ম। গোলাকার পাথর থেকে আদিজন্মের বিপরীতে ফুলেল ধারণা প্রকাশ করো।

ফুলেরা পূর্ণ হবার আগেই চুপচাপ ঝরে যায়। কোথাও ভরাট হচ্ছে না আর। তবু সবুজ মন থেকে কিছু হাওয়া লেগে যাচ্ছে শরীরে। বিস্তীর্ণ সূর্যক্ষেত্র শুধু ফোঁটা ফোঁটা দম টেনে পৃথিবী বাঁচাচ্ছে।

কাছে থেকেও যারা দূরে থাকলাম; কেউ বুঝলো না, একা মাতাল শুধু তুমুল মাতাল হলো আজ।


১১১০১৬
হা-হুতাশের পর, হলো আস্ফালন। বৃষ্টিতে ডুব দিলো পাখি।

অনেক দিনের পর, কিছু সিঁদুর মোছা দৃশ্য দেখে মন খারাপের গল্প হলো খুব।

সে-ই ঝিরঝির বৃষ্টি হলো শুরু, ক্রমান্বয়ে ঝুম বৃষ্টির পালা। গড়িয়ে যাচ্ছে রাত; উৎপীড়নের থামলো না তো কিছু। সারারাত্রি গড়াবে না কি জল! গর্তভরা শখের কৈ তো নিলেই; আর কতোটা ভাসিয়ে নিতে চাও?


১৪১০১৬
ভাবছি, কাউকে বলবো একটা পাহাড়ের ছবি বানাতে। হলুদ পাহাড়, তার উপরে মেঘ, শাদা শাদা মেঘ। দূর থেকে দেখে গাদাফুল ভেবে ভ্রম হবে মানুষের।

ওরা খুশি হবে। মানুষ ভ্রমে প্রকৃতই আনন্দ পায়। পাহাড়ে উঠবে সকলে। কেউ কেউ পকেটে কিংবা পাটের ব্যাগে ভ্রমের আনন্দ ভরবে।

কিন্তু হলুদ পাহাড়ে হৈ-হুল্লোর নিষেধ।


১৭১০১৬
কোলাহলে ঘুমাও তুমি। নৈঃশব্দ্য আতঙ্কের। ভয় পেয়ে ভেঙে যেতে পারে ঘুম।

এইসব বৃষ্টিদিনে ভোরের আকাশে দ্বিধাহীন পাখি ভেসে থাকে। নদী ভেঙে যায়, আঁচল ভিজে যায়। হাতের আঙুলে লুকিয়ে থাকে শৈশবভর্তি গ্রামাঞ্চল। লালগ্রাম নীলগ্রাম ছুঁয়ে ছুঁয়ে একদা বিশেষ ভঙ্গিতে ঠোঁটের কারুকাজ দেখিয়েছো।

ঘুম ভাঙাবো না, তোমাকে জাগাবো না। কোলাহল হোক। সঙ্গীপ্রিয় হামিংবার্ডের মতো প্রেম জাগিয়ে ঘুমাও। চারিদিক উচ্ছন্নে যাক।


২৬১০১৬
আমার মাথা ঘুরছে। চারদিকে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। সব মিলিয়ে যে একটাই আলো - কদাকার, বিভৎস!

অর্থ না থাকুক জানা, তবু চিৎকার ভালো কখনও-সখনও। চিরন্তন নরকদণ্ডের মহৎ আকাঙ্ক্ষাও দেখি অস্তিত্বহীন নয়। হাজারো বার আমি পরমানন্দ পাই দুঃখে। থামাতে পারি নি, নির্বুদ্ধিতে ভরে গেল মগজ। জ্বলন্ত চুল্লির মতো, বেগে নিকটবর্তী আমার ক্রোধের দোযখ। তোমাকে হুশিয়ার করে দিই; জীবনের কাছে আমাকে উপেক্ষা পেতে দাও। ব্যাঞ্জনবর্ণের ব্যাঞ্জনা থেকে দূরে অন্য কারুর অপেরার দিকে যাও।


২৭১০১৬
কখন যে কেঁপে ওঠো তুমি, মনোকম্পে, বুঝতে পারি না।

বোঝার মরশুম গেল কেটে, শীতপর্ব এলো। তানপুরা বাজাচ্ছে যেন কেউ, শিশিরের শব্দ শোনা যায়। ব্যথা বাড়ছে, বুকে। আমার শরীর, যাকে আমি অবিশ্বাস করি নক্ষত্রের মতো, যারা বৃষ্টিপ্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না, এই যে কাছাকাছি পৌঁছানো গেল তার, যে কোনও সময়ে সে ঈশ্বরের আত্মকে রেখে না যায় আমার কাছে। আমার ভয় করে, যদি সে ক্ষমতা পাই, তখন কি আমি নিম্নবর্গের দলে ঢুকে আত্মবিসর্জনের জন্য অপেক্ষা করবো!..


২৮১০১৬
পাখি কথা বলে, গান গায়, প্রেম করে। মানুষ শব্দে প্রতি মুহূর্তে শব্দভ্রষ্ট করে।

অনেক দিনের নাগার শ্রমে আমি এই নির্লজ্জ পাটাতনে দাঁড়িয়ে আছি। থু-থু দিই। ট্রাকড্রাইভার আর হেলপার এই মাতোয়াল রাতকে রূপান্তর করেছে তরলে। দুনিয়ার যতো আবর্তন, ঘটতেছে স-ব আমার মর্জিমতো। মাইণ্ড ইট। মরুভূমির মতো বাতাশ আমি চিত্রায়িত করেছি; এটা সংগীতে রূপান্তর করতে চতুর্থবার আমাকে জন্ম নিতে হবে। আমি নিজেই একটা গোলাপী রঙের আলো। গ্রামের পথে হাঁটতে হাঁটতে হৃদয়ের কুঠরীগুলো পূর্ণ করেছি অচেতনে।


২৮১০১৬
তামাম রাত এক জীবন্ত কিংবদন্তি, অজগর সাপ।

ঘুমের মধ্যে মনটা তলায়া গেলেই এক ঝাঁক মরা মুখ ভির করে মুখের উপর। মানুষ না। মানুষের প্রতি আমার কোনও টান নাই। মায়া নাই। মহব্বত নাই। কিচ্ছু নাই। বিশালাকার পতঙ্গের মরা মুখ দেখি। পরিচয়পর্ব সারতে পারি নাই ওদের সাথে। তার আগেই ওরা ভাগে; কই যেন পালায়া যায়।

সম্রাটের ক্ষত-বিক্ষত গণিকার প্রশস্ত গর্জন ক্রমে পুষ্ট হয়ে ওঠে। চূড়ান্ত প্রশ্রয় নিয়ে খাইতে থাকি তাদের দিকে। অথচ যাওয়ার জন্য আমার কোনও নির্দেশ নাই!


২৯১০১৬
রাতের কফিন থেকে বের করা সকল শব্দই আমি তোমার হেফাজতে রেখে ভার মুক্ত হলাম।

চুম্বনে-চতুর-অভিশাপ ভেবে দিন গুজরান করেছি ভাবতেই গর্ব এসে ভর করে মনে। দুর্গন্ধময় হৃদয়গুচ্ছ বহন করতে করতেই আমরা পৌঁছব নবনীতা জলে; স্নান হবে মেঘেদের যতো কারুকাজ খচিত শিল্পকর্মে। এ আমার ভাবনারেখা, একান্ত আমারই নিবিড় আপনজন। সিঁদুর মিশিয়ে শরীরে, আমি বুঝি পার করলাম জীবনের এতোগুলো আকাশ।

আমার মূর্খতার জন্য আমার নাভিমূল দায়ী। একদা হাতের ’পরে হাত রেখে আমি একের অধিক শব্দে নিজেকে হত্যাচেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম।


৩০১০১৬
এক নির্বিরোধ মা দেখেছি আমি; হাওয়ায়-ছন্দে দুনিয়া সাজাচ্ছেন! সূর্যের ছাপ মারা মুখ তাঁর, শুধূ একজন, পুরো পৃথিবীকে আশ্রয় দিচ্ছেন। এক করে করে বহুবার, প্রচণ্ড আলোর থাবা থেকে ছায়ার আঁচল পেতে চান করাচ্ছেন।

প্রভূত বৃষ্টিসম্ভাবনা মেনে দীর্ঘ-শ্বাসের  দৃশ্য ছাড়াই আমি গুচ্ছ গুচ্ছ পাখিকে আকার দিচ্ছিলাম। জল ও জলধি বিষয়ক জটিলতার আগে আমি পিপাসা মেটাতে গাছের বাকল খুলে মুখ লাগালাম। দুই-একবার প্রকাশ্যে আফসোস যে হলো না, তা অবশ্য না। তবু ভাবনার থেকে অধিক, আত্মপ্রেমে কামার্ত হলো জল-!


৩১১০১৬
অনেক ভেবেছি আমি, ‘তোমাকে’ গভীর থেকে লক্ষ করেছি; চাঁদ বা জোৎস্না কোনোকিছুতেই আসলে মিল নাই।

মাতালের ঢুলুঢুলু চোখ এই মুহূর্তে আমাকে টানছে না। আমিই জীবন, তার সামান্য আনন্দ। গ্রামের জড়তা আমি অনন্ত সময়ের হাতে ছেড়ে দিয়েছি। এই অপরাধপুষ্ট বাতাশের রাজ্য প্রগতি পাবে ফের। ভালোবাসা আর প্রচণ্ড আবেগের অন্ধকার যেন পথভ্রষ্ট বাঙালি সৈন্য এক, বহুকাল আগে যে পথ ভুল করেছিলো, ফিরে আসবে।

- গোলাপ, তুমি কনফিউজড হয়ো না; দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সবার জন্য নয়।
- আমার জন্য উত্তম হলো অকর্মণ্য এই শরীরে ক্রোধের বসতি টেনেহিঁচড়ে দূরে নিক্ষেপ করা।


০৬১১১৬
 আবার আসছে ছুটিবার। নির্লজ্জ আর খাপছাড়া এক দিন তুমি। তোমার জন্য আমার কোনও অপেক্ষা নাই; নাই নাই এবং নাই।

বিনম্র সকল উগ্রতায়, গোপন অশ্বে তোমার সিঁড়িতে আগুন লেগেছে ফের। ভেসে ভেসে ওঠে ধাতুর উন্মাদনা। হারিয়ে ফেলা গান, পুরোনো গ্রামেই, খুউব শান্ত ভঙ্গিতে বাজে। যেন মহামান্য হেঁটে যায় আধো-জাগরণের প্রতিটি শিরায়। অনির্দিষ্ট প্রেম, দোমড়ানো- মোচড়ানো, নুয়ে পড়ে বিষণ্ন কুর্নিশে। অনাবৃত পরীদের ঘুমন্ত আস্তাবলে ছড়িয়ে যায় রক্তের নীর সুষমা। এই বুঝি পিপাসাডালার সকল আভা লাবন্যের চরাচর আন্দোলিত ক’রে তুমুল ছুটে হবে অদৃশ্য বিষাদ সাক্ষরে।


০৮১১১৬
এতো যে জোনাকি-আলো, পথ দেখায় না, আশা জাগায় না; ব্যথা ভোগায় না; কিছুই...

আমি শুধু জন্মকে মৃত্যুর প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে ভালোবাসি। প্রতিবার জন্মের ত্রুটি নিয়ে এতো যে প্রবণ-মাঝি!.. তোমার জন্য লাগে আমার কব্জি-জোরের থেকে বেশি, পুরোনো ক্রোধের সুরে গর্জন। কোন প্রায়শ গোলাপের নামে প্রতারণা মুদ্রণ করো! শীতার্ত ভয়ে কেঁপে ওঠা, দুলদুল এই পাতাগুলো অসহায়, কপর্দক ছুঁতে পারছে না। সোডিয়াম বাতি থেকে মিনতিমিনার অব্দি, ভাসে অনঙ্গ বাতাশ শুধু বাদামের পাতা থেকে যথার্থ মনীষা জাগাতে। আমার ঈশ্বর তুমি, ভেতরে সবুজাভ পাট; অথচ আশ্চর্য, তোমারই হৃদয়ে ঘটে বানানবিভ্রাট!


০৯১১১৬
এই দুনিয়া আমাকে মেরে ফেল, তীরন্দাজ; তোমার জীবন ঢুরি না আমি; খতম করো এইবার।

নির্লজ্জ আকাশের পাশে বসে তোমার কাছে গোপন-গুচ্ছ চাওয়া পূরণ করো হে। ব্রীজ ভেসে যায়, ঘন বৃষ্টির নীলে। মধ্যরাতের ভ্রম থেকে সযত্নে স্নিগ্ধ আবেগ তুলে রাখি শূন্যালোকে। পুরোনো আয়না দেখে গাছেরও আনন্দ হচ্ছে খুব। বেহায়া উৎসবের বেলা, ওড়ে প্রজাপতি, তোমার চোখ দেখে মরে অন্ধ কুস্তিগীর। সকল গান থেকে খসে যাওয়া সুর শুধু পড়ে থাকে, অবসন্ন জলে কিছু ঢেউ খেলে যায়।


১১১১১৬
 পাশ ফিরে ঘুমুচ্ছিলাম। হাওয়াকল জাগাচ্ছিলাম। জামরুল বন থেকে আবছা তাথৈ একা, গান শেষে ফিরে এলো।

তুমুল পাগল হাসছে। নদী সব জাগছে পুরোনো প্রতিবাদে, শরীর ছাড়িয়ে। গভীর বিস্মৃতি পেরিয়ে বিপুল পতঙ্গডানা, এসো। অপরাধ ভেবে পাখির বল্কল, দূরে যেতে যেতে জমছে আবছা নীল। নির্বিকার যন্ত্রণা ছেড়ে এসো মুক্তকেশী সত্য বাহানা। মাথায় ফিতে বাধা শিখতে শিখতে ঘনহলুদের বুকে বিঁধে যাওয়া উভয় বেদনা এক ফুল থেকে ভীষণ রাইপথ বেয়ে উঠে যাবে যাতনা-সজাগ হরিণীর ছায়ায়। কোমলমতি কদমফুলের দিকে, তুমি মূঢ় তুমি জলবৎ তরলং।


১৩১১১৬
মধ্যরাতের ঝি-ঝি আসলে রাত্রির নিজস্ব আসবাব।

আমি জলের উপরে নাম লিখে রাখলাম। আমি স্রোতের ভাগাড়ে নাম লিখে রাখলাম। মনে-হৃদয়ে-মগজে মাথায় এতো যন্ত্রণা হয় কেন? শিশিরের শব্দে জগৎ বিদীর্ণ হবার দৃশ্য দেখবো বলে এখনও জেগে আছি। প্রচণ্ড শব্দটা যদি ভেঙে ভেঙে দেখাতে পারতাম, কী ভয়ানক প্রতিবিম্ব তৈরি হয়েছে আমার! কিছু প্রজাপতি বিশ্বাস করবে পৃথিবীকে, তোমার মতো যারা সটান জবাগাছ; অথবা শরীরের বুনোপথে নিবিড় পর্যটক। এই সাজানো পথ ছেড়ে আমার কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না আজকাল।


১৬১১১৬
চাইলেই আসতে পারো তো। আসা যায়। কতো জন আসছে না! তুমিও তো পারো। আসো না কেন আর? আন্তঃনগর প্রেমে চেপে...

কী করছো? কার দিকে যাচ্ছো? কেয়াফুল অথবা জমে থাকা বৃষ্টির মতো ঝিম পাথর আমি। কারও দিকে যাচ্ছি না। নিথর, প্রকা- মাংসস্তুপ যেন। প্রতিটি অচেনা আড়ালজুড়ে উগ্র হাহাকার প্রযোজনা করি না আর। খোঁপাফুল থেকে ঝরে পড়া রক্ষাকবচ জানে মহাপ্রলয়ের সুর। একই পথ ধরে যাই প্রতিদিন। একই পথের সুতো সূচনাবিম্ব থেকে কিছুদূর এগিয়ে আলাদা হয়ে গেলে খুব বিবমিষার পাহাড় জমে যায়। কে এই পাহাড় খোদাই করে?


১৮১১১৬
বিস্তর সামাজিক সমঝোতা পাঠাতে হচ্ছে হাওয়াবাগানের দিকে। নদীর বিস্তার ঘটে মহাবরিষণে।

জলের জন্ম নিয়ে সংশয়ে তুমি, কুয়াশায় মধ্যমাঠ থেকে যাত্রা করলে শুরু। তখনই মনে হলো, আজ সমুদ্রসংঘাতের যতো গভীর গোপন কথা তোমাকেই বলা প্রয়োজন। অথচ প্রেমের দিকে ধাবিত আমার যে ভীতুস্বভাব, তা-ও আজ ইতিহাসভুক্ত হয়ে গ্যাছে। ফলত আমার কোনও সফলতা হলো না পাওয়া।

ফলাফলে বিচিত্র ফল ও বীজের কথা ভেবে আপাতত ঘুমিয়ে পড়া ভালো।


২২১১১৬
মৌসুম চক্রে এতো বাতাশ ওঠে যেন মনে হয় ভেতর-বাহির সব ভেসে যাবে। এতো জোর কোত্থেকে পায়? কে এতো শক্তি যোগায় মনে মনে!

পালাবার সময় আমি তবু বাতাশের প্রেমে পড়ে যাই। আগেও অনেকবার আপ্লুত আবেগে তাকে জড়িয়ে নিয়েছিলাম। তবু দু’-একবার মেজাজ এমন হয়ে যায়, ইচ্ছে করে বাড়ির কুকুরটা লাগিয়ে দিই পিছে।

তারপর তবু হতাশ হতে হতে হতে হতে তলানিতে ঠেকে গেলে বিচিত্র ইচ্ছে জাগে মনে...


২৩১১১৬
মনে পড়ে না?
- পড়ে।
যেতে ইচ্ছে করে না কাছে?
- করে।
বেদনা জাগে না মনে?
- জাগে।

কখনও এমন হয়, বুঝি তার কণ্ঠ শুনতে পাই! মায়েরা কথা বলছেন, আড্ডা দিচ্ছেন উঠোনে, শুনতে পাচ্ছি, তাঁরই তো কণ্ঠ...




0 comments: