মৃত্যুপূর্ব গান

অনন্ত ঘুমের ভেতরে আমি ঢুকে গেলাম, অসামান্য প্রেমের চোরাস্রোতে; বিলুপ্ত জীবাশ্মের বুকের উপরে বসে, ধূসর অন্ধকারে দেখা হলো তোমার সাথে। বলি, কেমন আলোর ধারা তুমি, ছায়া মাড়িয়ে চলে যাও!

— স্পর্শশীল প্রজাপতি জানে না কার চোখে ঘুম।
— হারানো পরীর ডানা খুলে রাখো জয়ন্তিকা।
— গুটিকয় ঢেউ কী প্রকারে ভারি হয়ে আছে জুতার পৃথিবীতে!
— জীর্ণ নীলের ভিতরে প্রলয়, শান্তপাহাড়। কিছুটা অবাক।
— অনির্দিষ্ট জন্মের দিকে কিছু মৃত্যু ছুঁড়ে দিও সত্যিকারের ফুল।
— অবাক বনসাই তোমাকে ধারণ করেছে অধিক আশ্চর্যে।
— তিনটে বাজে মৌ, শীতরাত্রি আজ, হল্লা হবে না কোথাও।
— তামাক ফুলের বাগান ছিলো অন্তিম অরণ্যে একা!
— শান্ত একটা কোলাহল ছেয়ে যাচ্ছে বার্ধক্যবিলাসে।
— মুছে যেতে যেতে মৃদু হাসি হয়ে ঝুলে আছো উত্তাল হাওয়াঘর।
— অবাক, অবাক হও; দ্বিধাহীন ঢেলে দিচ্ছি পাতে দূরের বনবিড়াল।
— কমলার জ্যান্ত জোঁক উদ্বেলিত ভালবাসার মতোই মিলিয়ে যাচ্ছে!
— ঈষৎ কাৎ হয়ে থাকা মৌনতা মেলে ধরে দমকলের আলো।
— সামান্য প্রেমের দিকেই ধাবিত পাখিদের সমস্ত গমন।
— তারকার তরঙ্গরাশি থেকে চাপা আর্তনাদের সাথে কারা ঝরে পড়ে!
— মাঝে মাঝে এক-দুইটা মধ্যরাত দেয়ালে গেঁথে রাখি।
— ভাসমান বাঈজীর হৃদয়ে নিস্ফল উদ্বেগ গাঢ় হয়ে আসছে।
— তুমি দ্যাখো নাই ওইখানে, নিরস্ত্র নাভির দিকে বহমান রাতের সংগীত।
— অ্যাশট্রে ভারি হয়ে আছে প্রস্তরিত কূটাভাসে।


0 comments: