ডাবিং অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধের দাবি শেয়ালের ক্রন্দনের মতোই শোনাচ্ছে


`সুলতান সুলেমান' বন্ধের দাবি করছে ক্ষমতার অংশীদার কিছু সংস্কৃতিজীবী। ক্ষমতার পাশে থেকে থেকে এদের এমন অবস্থা হয়েছে যে, এদের ধারণা দেশের জনগণ কী দেখবে না দেখবে এটা তাদের অনুমতি নিয়ে দেখতে হবে। তারাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। এইসব জনবিচ্ছিন্ন, পরজীবী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের কোনো গুরুত্বই যে এই দেশের জনগণের কাছে নাই এটা এদের কে বুঝাবে? এমন কি দেশের চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছেও এদের কোনও গুরুত্ব নাই।
হাঃহাঃহাঃহাঃ। 
দীপ্ত ও একুশে চ্যানেলের সামনে এতো কান্নাকাটি করার পরেও কোনও গুরুত্বই দিলো না এদেরকে।

*** 
 দুই মাতালের কথোপকথন: 

 প্রথম মাতাল: স্টার প্লাস বা জলসা বন্ধের দাবি করে না কেন এরা? 

 দ্বিতীয় মাতাল: আরে বোঝেন না, এই দাবি করলে বাড়ির বউ ভাত বন্ধ করে দিবে না? এমনকি বাড়িতে ঢুকতেও না দিতে পারে। তাই তো এ বিষয়ে চুপচাপ। 

 [২৪ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ ফেইসবুকে প্রকাশিত।]

____________________________________ 

হে জাতির স্বঘোষিত চাচা, 

 : যখন সুলতান সুলেমান দীপ্ত চ্যানেলে সম্প্রচার হতো না তখন তোরা কী করছিলি? কী দেখাইছিলি আমাদের? 
 :: বিজ্ঞাপন 
: কোনোদিন তোদের তো দেশি নাটক/সিনেমার মান উন্নয়ন নিয়ে এমন কিছু করতে দেখলাম না, যাতে প্রকৃতই উন্নত হয়। আজকে আসছো জাতির চাচার দায়িত্ব পালন করতে? ভাগ খাওয়া ছাড়া যাদের এখন কোনও কাজ নাই,তারা একত্রিত হইছো? ব্যাপারটা কী রকম, বলছি। ধরুন কোনো একটা সরকারি কলেজে কাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হয়েছে। সেই কলেজের ছাত্রলীগ এই খবর পাওয়া মাত্রই ছুটে আসবে ভাগ নিতে। বাঙলাদেশে সাধারণত অধ্যক্ষরা ভাগ দিয়ে দেয়। ব্যতিক্রম দুই একজন ভাগ দিতে চায় না। তখন ছাত্রলীগ হুমকি ধামকি দেয়। একসময় গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করে। যদি এসব করে লাভ না হয় তখন শেষ উপায় হিসেবে ঐ অধ্যক্ষের কোনও ত্রুটিবিচ্যুতি খুঁজে বার করে আন্দোলনে নাম তাকে পদঅবনতি ও স্থানান্তরের দাবিতে। তখন তারা কলেজের শিক্ষা উন্নয়ন, কাঠামোগত উন্নয়নসহ আরো অনেক দাবি তুলে এমনভাবে কথা বলতে থাকে যেন আপনি বুঝতেই পারবেন না যে, এই আন্দোলনের একমাত্র কারণ ভাগ খেতে না পারা! আমি মনে করি ডাবিং অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধের দাবিতে আজকে জাতির চাচাদের আন্দোলনও ছাত্রলীগের মতোই শেয়ালের ক্রন্দন। 

 [২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ ফেইসবুকে প্রকাশিত।]

0 comments: