বইমেলা'১৬ -এ খনন কর্তৃক গৃহীত সাক্ষাৎকার

অমর একুশে বইমেলায় ২০১৬-এ বাদল শাহ আলম সম্পাদিত সাহিত্যপত্র খননের পক্ষ থেকে এই সাক্ষাতকারটি নেয়া হয়।

  • খননঃ এবারের মেলা কেমন লাগছে?
সাম্য রাইয়ানঃ মেলা যেমন হয় আরকি, হৈ চৈ, দৌড়-ঝাপ, মহাকোলাহল। আমার ভাল্লাগে না। তবু আসি, অনেক বন্ধুর সাথে দেখা হয়, আড্ডা হয়। আমি তো ঢাকা থেকে দূরে থাকি, বছরে সাধারণত এই একবারই ঢাকায় আসি, বইপত্র সব একসাথে পাওয়া যায়, এই-ই উদ্দেশ্য।
  • খননঃ আপনি মূলত কোন কাগজের সাথে যুক্ত? কোন কোন পত্রিকায় লিখছেন?
সাম্য রাইয়ানঃ মূলত আমি বিন্দুর সাথে যুক্ত; সম্প্রতি চারবাকের সাথে যুক্ত হয়েছি। নিয়মিত লিখছিলাম দ্রষ্টব্য, জঙশন আর অনলাইন সাহিত্যপত্রিকা পরস্পরে। মাঝেমধ্যে করাতকল, বিরাঙ, শিরদাঁড়া, ঘুঘু, তৃতীয় চোখ, পুষ্পকরথ, বাঙাল, বিরোধ; কলকাতার বাঘের বাচ্চা, কোলাজ, ঋ৯ প্রভৃতি ছোটকাগজে লিখি।
  • খননঃ আপনাদের পত্রিকার নামসহ সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দিন।
সাম্য রাইয়ানঃ দশ বছর আগে যখন আমাদের লেখা প্রকাশের কোনো পত্রিকা ছিল না তখন ‘বিন্দু’ প্রকাশ করতে শুরু করি। মূলত কুড়িগ্রামের আমরা কয়েকজনই লিখতাম, তবে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বন্ধুরা লিখছেন। বিন্দুর মোট ১৮ টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে, ১৯ তম সংখ্যার কাজ চলছে। এর বাইরে মাঝেমধ্যে ‘বিন্দু বুলেটিন’ প্রকাশিত হয়।



  • খননঃ আপনি কতোদিন ধরে লিখছেন?
সাম্য রাইয়ানঃ এলেবেলে লেখা লিখি অনেক আগে থেকে। সিরিয়াসলি লিখতে শুরু করি ২০১০ এর পরে।
  • খননঃ বিন্দুর সাথে আর কে কে যুক্ত?
সাম্য রাইয়ানঃ লেখা, কম্পোজ, ছাপা, বাঁধাই, বিক্রি এই পর্যায়গুলোতে অনেক মানুষই বিন্দুর সাথে যুক্ত। প্রত্যেকেই বিন্দু পরিবারের একেকজন সদস্য হয়ে গেছেন আসলে। এর মধ্যে অনেকে যুক্ত ছিলেন, অনেকে বিযুক্ত হয়েছেন, এভাবেই বিন্দুর যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এতকিছুর মধ্যেও কিছু মানুষের নাম বলতে পারি, যাঁরা বিন্দুকে আগলে রেখেছেন, কবি ও ছবিয়াল রাশেদুন্নবী সবুজ, কবি আহমেদ মওদুদ, কবি ও স্ক্রিপ্টরাইটার শুভ্র সরখেল, কবি আরণ্যক টিটো, কবি ভাগ্যধন বড়–য়া, কবি সৈয়দ সাখাওয়াৎ, কবি ফরহাদ নাইয়া, কবি তারিফ হক, কবি শামীম সৈকত, কবি ও চিত্রকর রাজীব দত্ত প্রমুখ।
  • খননঃ বিন্দুর উদ্দেশ্য কী?
সাম্য রাইয়ানঃ প্রকাশনার শুর থেকে বিন্দুর একটাই উদ্দেশ্য, নিজেদের ভালো লেখাগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রকাশ করা।
  • খননঃ আপনি কেন লেখেন? কাদের জন্য?
সাম্য রাইয়ানঃ আজকাল কেউ কেউ আমার লেখা পড়েন; বেশ বুঝতে পারি। কেউ যদি আমার লেখা না পড়তেন তবুও আমি লিখতাম। আমার লেখা, পাঠকের পড়া না পড়ার উপর নির্ভর করে না! আমার কথা, আমার বক্তব্য, যে কোনো বিষয়ে - আমার যা চিন্তা তা আমি লিখি; লিখে বলি; এছাড়া আমার আর কোনো মাধ্যম নেই; বিকল্প নেই। অতএব আমাকে লিখতে হবে; কথা বলতে হবে; যে কথা আমার, যা কেউ বলছে না।
  • খননঃ আপনার উদ্দেশ্য কী?
সাম্য রাইয়ানঃ তীব্র কবিতার দিকে যাত্রা ভিন্ন  কোনো উদ্দেশ্য নেই।
  • খননঃ আপনার কাছে ভালো মানের মনে হয় এমন কিছু কাগজের নাম বলুন।
সাম্য রাইয়ানঃ অনেকেই ভালো কাজ করছে। সবার নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। জঙশন, দ্রষ্টব্য, শিরদাঁড়া, কবিতাপত্র, অর্বাক, নিসর্গ, শালুক এঁরা ভালো কাজ করছে।

0 comments: