কবিতাভাবনা : কবিতা অথবা কবিতা কবিতা খেলা



কিছু শব্দ আমি লুকিয়েছিলাম তোমার
গোপন গুহায়, আমার ব্যক্তিগত পৃথিবীতে।
মৃদু শব্দেরা খুব দূরন্ত হয়েছে
আজকাল, ঘরবাড়ি তছনছ করে।
আমার পৃথিবীও হলো উল্টোপালক
ভেঙে তছনছ শ্রী একাকার!


কেবলই শব্দ গাঁথি স্বপ্নবাজ তাঁতিদের মতো। পুরো গাঁথা শেষ হলে এগুলো ছেড়ে দিই; পুকুরে ছড়িয়ে পড়ে ঘন বুনটের জাল।


এইখান হতে যতোগুলো শব্দ শোনা যায়, তার সবগুলো কিছুটা সময় নিয়ে, মিশ্রিত, একটি গর্জন হয়ে হাজির হবে। আর দূর থেকে ভেসে আসা সহস্র প্রাণের কণ্ঠস্বর কুলধ্বনির মতোই মিশে যাবে একটি বিন্দুতে। আর সেই বিন্দুগুলো, অগণিত, জড়ো হতে হতে তৈরি করবে আরেকটি অকল্পিত বিন্দু, কবিতার শরীর।

কবিতার সত্য- সত্য নয় শুধু, দর্শিত সত্যের ওপরে তার গতিস্রোত; আর গভীরেও।


শুশ্রুল বৃক্ষের নিচে শিশিরের মতো টুপ করে ঝড়ে পড়া মেঘ থেকে - যুদ্ধপরবর্তী হিমায়িত নীরবতাসংগীত থেকে - শিশুদের কান্নার আওয়াজ থেকে - ঝিমলির ঘুরে দাঁড়ানোর প্যাটার্ন - টান দিলে খুলে আসা চোখের পালকের মতো - মৃদু শব্দেরা খুব দূরন্ত হচ্ছে কবিতায়। যোনিমুখ থেকে বেরিয়ে আসা ভাবনার কার্পেটে মোড়ানো কবিতা। আরো আরো নিবিড় যাপনে জন্ম নিচ্ছে কবিতা। কালো চায়ের লিকার থেকে নিবিড় ভালোবাসায় ভাতের মারের মতো উথলে আসে কবিতা - আরো গভীর আরো ব্যাপক বিস্তৃত উশৃঙ্খল আজেবাজে এলোমেলো হওয়ার শব্দ, পাতা ঝড়া হাসির শব্দ আরো নিবিড়; ব্যাথিত সূর্যের অসন্তুষ্ট রৌদ্রের ভেতর থেকে জন্ম নেয়া মেঘের বাচ্চা।

[ আলী প্রয়াস সম্পাদিত তৃতীয় চোখে (ফেব্রুয়ারি '১৫) প্রকাশিত ]

0 comments: