বোধিদ্রুম

কর্কষ দুপুরে তোমাকে মেঘ ভেবে
ছুটে যাই। আমার ভালো লাগে।
স্বস্তি পাই। এ হাওয়া
বাতাশ তোমার শরীরী গন্ধ বয়ে আনে
আমার বাড়ি অব্দি।
তোমার আঙিনা সে তো মেঘের মায়াবী প্রান্তর

ঐ যে ছেলেটা, সাদাকালো মুখে
প্রতিদিন আমায় দেখতো, ও আসলে
তোমার অপেক্ষা করতো। আমার দিকে তাকিয়ে
কী যেন ভাবতো ভেতরে।
আর তার কিছুটা পরেই যে ইটভাটা
সেখান থেকে বেরিয়ে আসা তীব্র ধোয়া
সবকিছু ভাসিয়ে নিতে চাইতো!
আমার অবশ্য এসব মনে ধরতোনা
কখনো; আমার তো কেবল
মেঘ ছোঁবার ইচ্ছে।
অনেক কলা ঝড়ায়ে, শেষতক বুঝেছি
আনন্দের কোনো মাথামুন্ডু নাই।

এই যে জীবনহীনতা, যা আমি
যাপন করি হৃদয়ে মননে
তা আমারে চপেটাঘাত করে
কী উঞ্চ অপরাধে! ঘোরগ্রস্ত
ব্যাকুল চোখ তুলে তাকালে
শুধু সেই মাদকতা আমারে গ্রাস করে।
তবে বৃক্ষ তোমার পায়ের কাছে
মৃত্যুও হয় কুন্ঠিত।

অতএব মৃত্যুভাবনা ছাড়ো।
তোমার হৃদয় থেকে
এই আমবাগান, ধানক্ষেত, হৃদয়পুর..
বর্ণনা করো ধীরে ধীরে
সমস্যা নাই তাতে; দৃশ্য স্কিপ করোনা।
পুরোপুরি গোঙানিটা শুনতে চাইছিনা
কিছুতেই। তার চেয়ে
ঐ ঝিঝিটার প্রতি চোখ বুজে
ওকে গ্রহন করাটা প্রশান্তির।

তোমার এই নীল থেকে লাল হয়ে ওঠা
রক্তবিন্দু আমার মোটেই ভালোলাগে না।
বরং একটা গাঢ় আবরনে
দৃশ্যগুলো ঢেকে ফেলাটা বেশ!

এইসব ছোপছোপ শিশুতোষ উপকথার
প্রেমে পড়েছিলাম। শুরুতে পরোয়াই করিনি;
হাত নেড়ে তাড়িয়েছি, মাছি তাড়ার মতো করে।
অথচ কিছুই ভাল্লাগছেনা আজকাল, অগনিত
মিথ্যা সংবাদপত্র, বাহারী চোখমুখ
আলোর জৌলুশ, সিরামিক সোসাইটি।
এই সবকিছু ছেড়েছুড়ে পুরনো
হাতঘড়িটাকে সঙ্গে করে তোমার কাছে
যেতে চাই। এইসব অস্থির দিনরাত্রি ছেড়ে
এই জীববৈচিত্র্য, জীবনচক্র; সব ছেড়ে- সব

আমি তোমার কোন সৌন্দর্যকে অস্বীকার করবো বলো?
কতো কতো স্মৃতিকে বামবুকে জমিয়ে রেখে
সেইতো তোমার কাছেই যেতে হবে আবার।
সূর্যের সমসময়েই তোমাতে আশ্রয় নেয়া
আমার অভ্যেস হয়ে গ্যাছে।


(প্রকাশতথ্য: জঙশন / ফেব্রুয়ারি ২০১৫)

0 comments: