বইমেলা তো লেখকদের কাছে তীর্থযাত্রার মতোই: সাম্য রাইয়ান


NewsVillage24: এবার মেলায় কি আপনার বই বের হচ্ছে? প্রকাশিতব্য বই সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলুন।
সাম্য রাইয়ান: কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বাঘের বাচ্চা’ লিটলম্যাগাজিনের জন্য সমীরণ মোদকের অনুরোধে গত বছরের শেষ দিকে একটি গদ্য লিখেছিলাম ‘সুবিমল মিশ্র প্রসঙ্গে কতিপয় নোট’ শিরোনামে। এবার একুশে বইমেলায় এই গদ্যটিই পুস্তকাকারে প্রকাশিত হবে বাঙ্ময় প্রকাশনা থেকে। এটা আমার প্রথম বই। প্রকাশক রাশেদুন্নবী সবুজ। প্রচ্ছদ করছেন চারু পিন্টু।


এছাড়া ‘বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা’ শিরোনামে আমার প্রথম কাব্য পান্ডুলিপি ছাপা হচ্ছে কামরুল হুদা পথিক সম্পাদিত লিটলম্যাগাজিন দ্রষ্টব্যে। আগামী বছর এই পান্ডুলিপিটি পুস্তকাকারে প্রকাশিত হতে পারে।



NewsVillage24: সারাবছর লেখক-প্রকাশক বই প্রকাশ না করে এই একুশে বইমেলা এলেই বই প্রকাশ করেন।  বইমেলাকেন্দ্রিক বই প্রকাশকে আপনি কীভাবে দেখেন?  
সাম্য রাইয়ান: বাঙলাদেশে পাঠকদের কাছে বই পৌঁছে দেয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম একুশে বইমেলা। ফলে বই প্রকাশের জন্য লেখক-প্রকাশকদের তাকিয়ে থাকতে হয় এই বইমেলার দিকে। আমার মনে হয় বিপনন সমস্যাই এর প্রধান কারণ। যেহেতু এদেশে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিপনন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি ফলে লেখক-প্রকাশকগণ স্বাভাবিকভাবেই বইমেলাকেন্দ্রিক বই প্রকাশ করবেন। এর কোনো বিকল্প আপাতত আমাদের হাতে নেই।


NewsVillage24: একুশে বইমেলা বাঙলাদেশের সাহিত্যে কী ধরণের প্রভাব ফেলেছে?
সাম্য রাইয়ান: বইমেলা তো লেখকদের কাছে তীর্থযাত্রার মতোই। একজন লেখক সারা বছর মুখিয়ে থাকেন বছরান্তে একটি বইমেলার জন্য। এই আয়োজনে লেখক সরাসরি তার অনেক পাঠকের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান। ফলে সরাসরি পাঠকের মুখ থেকেও পাঠপ্রতিক্রিয়া জানা হয়। সবমিলিয়ে বাঙলা সাহিত্যে এর প্রভাব বেশ জোড়ালো বলেই আমার মনে হয়। তবে দিন দিন বইমেলাকেন্দ্রিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যে হারে বৃদ্ধি হচ্ছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।


NewsVillage24: আমাদের প্রকাশনা শিল্প তরুণদের উৎসাহিত করার ব্যাপারে কী ধরনের ভুমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?  
সাম্য রাইয়ান: প্রকাশনা উপরণের সহজলভ্যতার কারণে লেখালিখির সাথে যুক্ত অনেক তরুণই এই শিল্পের সাথে যুক্ত হচ্ছেন। কেননা এখন বই প্রকাশ করা তেমন কোনো জটিল ব্যাপার নয়। পর্যাপ্ত লেখা আর টাকা হলেই বই প্রকাশ করা সম্ভব। কিন্তু এই শিল্পকে বিকশিক করার জন্য রাষ্ট্রীয় সহযোগীতার পরিমাণ কিন্তু অত্যন্ত নাজুক। যে কোনো শিল্পকে পর্যাপ্ত বিকশিত করার জন্যই রাষ্ট্রীয় সহযোগীতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এদেশে রাষ্ট্রীয়  সহযোগীতার অপর্যাপ্ততার কারণে প্রকাশনা ব্যাপারটি আসলে এখনো শিল্পই হয়ে উঠেনি।


NewsVillage24: প্রকাশনা উপকরণের সহজলভ্যতার কারণে যে কেউ ইচ্ছা করলেই বই প্রকাশ করতে পারেন। এতে বছর বছর বাড়ছে বইয়ের সংখ্যা। বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মান বৃদ্ধি ঘটছে না বলে অনেকেরই অভিযোগ। বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দ্যাখেন?
সাম্য রাইয়ান: প্রকাশনা উপকরণের সহজলভ্যতার কারণে বইয়ের সংখ্যাবৃদ্ধির ঘটনাকে আমার কাছে পজেটিভই মনে হয়। বই প্রকাশ, বিপনন ও পাঠ– এই ব্যাপারগুলোকে কুক্ষিগত করে একটা সমাজ কোনোভাবেই বিকশিত হতে পারে না।

মানসম্মত বই যে প্রকাশিত হচ্ছে না তা তো নয়। এই দেশে, যেখানে মানুষের চিন্তাজগত কঠোরভাবে বুর্জোয়া প্রচারমাধ্যম দ্বারা প্রভাবিত, নিয়ন্ত্রিত; সেখানে মানসম্মত বই প্রকাশের হার এরকমই হবে। বছর বছর শ’য়ে শ’য়ে মানসম্মত বই প্রকাশিত হবে না। আর সেই বইও লোকে লাইন দিয়ে কিনবে না।

দেখুন, কেবল প্রচার-প্রপাগান্ডার জোড়ে কোনো বই টিকে থাকে না, অন্তর্গত শক্তি থাকতে হয়। সে শক্তির জোড়েই একটি ভালো বই টিকে থাকে। হাজারো চটকদার বইয়ের ভিড়ে একটি ভালো বই উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকে।

[ প্রণব আচার্য্য কর্তৃক নেয়া এই সাক্ষাতকারটি ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখ ০৬:৫২:৫৮ মিনিটে NewsVillage24.com এ প্রকাশিত হয়। মূল পত্রিকার লিঙ্ক ]

1 টি মন্তব্য:

  1. বাহ! আপনার ব্লগটি দেখলাম, কিছু পড়লাম। একটা ফলোয়ার গ্যাজেট জুড়তেন। তো নিজেও জুড়ে থাকতাম।

    উত্তরমুছুন