গভীর স্বপ্নের ভেতর

দিনরাত্রি শুধু অস্থিরতা, মজ্জায় মিশে গ্যাছে ৷
জ্বলন্ত মোমবাতির কাছে আমি একদিন
ঋণ করেছিলাম জীবন ৷ সেই থেকে সে
তেল চিটচিটে গ্লিসারিন ৷


সব থেকে ভালো হয় যদি আদিগন্ত ভেসে যাই
আর জাগিয়ে তুলি ঋজু ও কঠিন পাহাড়ের প্রাণ ৷
কিংবা একঝটকায় খুলে ফেলি মহিষের দড়ি ৷
পাড় থেকে নেমে যাই গভীরে, আর জিরাফের
মতো গলা তুলে ডাকতে থাকি— ঘনিষ্ঠজন
নিকটে আসো হৃদয়ের; মনে হয় ঐ হলুদ
ফুলগুলো— বিরাটাকার সূর্যের মতো— অপেক্ষা
করছে আমার ৷ যেতে হবে— কিন্তু ইচ্ছে করছে না ৷


বোধয় গভীর স্বপ্নের ভেতর
আমি অসুস্থ হতে চাই ৷
চুপ করে ছুঁয়ে দিতে চাই বহুতল রঙিন বাড়িটি
ভুলে যেতে চাই হারিয়ে যাওয়া ডাকবাক্সের
স্মৃতি ৷ আর সেই নীলজামা
মাতাল তরুণীর কথা ৷ আক্ষেপে
হারিয়ে ফেলছি সবকিছু ৷ মন ভালো না ৷
সিলগালা রাত্রি নিকটে এলে
পাঁজর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে স্বপ্নের ফসিল ৷

আদিগন্ত দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আসলে
কিছুই শিখিনি আমরা ৷ সবকিছু
অস্থির লাগে ৷ মাফ করবেন, গালি দিতে
ইচ্ছে করে ৷ আমার সমস্যা আছে ৷
ঘাসফড়িঙের ঝাপটা লেগে ক্ষরণ হইতে থাকে
স্বচ্ছ জলের দিকে তাকালে কী যে হয়
জাপটে ধরতে ইচ্ছে করে নিজেকেই!
কিছুই করি না, আবার করিও
গভীর স্বপ্নের ভেতর ডুবে যেতে ইচ্ছে করে শুধু
আর তোমার দিকে তাকালেই
অনুভব করি প্রগাঢ় একাকিত্ব, সহস্র
আমিই প্রতিবিম্বিত হয় আমার দিকে ৷
আত্মজ বিহঙ্গ কেঁপে ওঠে থেকে থেকে
ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে কেবল ৷

পৃথিবীর কাছে চেয়েছিলাম এক ঘন বনাংশ ৷
আদিগন্ত মাঠ আমি ঘুরতে চেয়েছি
দোয়েলের চোখ নিয়ে;
ফড়িঙ নয়, ধরতে চেয়েছি ফড়িঙের প্রেম ৷
কিছুই হল না আমার, কিচ্ছু না ৷
আরেকবার, আর একটিবার
তোমার শরীরী গন্ধে আমায় মাতাল হতে দাও ৷


প্রকাশতথ্য: জঙশন । ফেব্রুয়ারি ২০১৪

0 comments: