সাহিত্যে বেনিয়াপনার অংশ হিসেবে রংপুরে আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবের আমন্ত্রণপত্রে সাম্য রাইয়ানের নাম ব্যবহারের প্রতিবাদ, শ্বেতপত্রে প্রকাশিত

সাহিত্যে বেনিয়াপনার অংশ হিসেবে রংপুরে
আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবের আমন্ত্রণপত্রে আমার নাম
ব্যবহার, এর প্রতিবাদে এইভাবে আমাদের মূত্রপাত


এটা খুবই লজ্জার ও দুঃখের যে, সম্প্রতি নতুন সাহিত্য নামক একটি পত্রিকা আয়োজিত আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবের আমন্ত্রণপত্রে আমার নাম পাওয়া গ্যাছে, যা সম্পর্কে আমি বিন্দুমাত্র অবগত ছিলাম না। ঐ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত এক কবি প্রথম এ বিষয়ে বেশ উৎফুল্ল মনোভাব নিয়ে আমাকে অবগত করে মৌখিকভাবে; বিষয়টা শুনে বেশ আশ্চর্য হই। পরবর্তীতে—ধীরে ধীরে শুরু হয় বন্ধু-পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের ফোন আসা, সবাই আমার মন্তব্য→অবস্থান জানতে চায়, বিব্রতকর একটা পরিস্থিতিতে পড়ে যাই আমি। পরবর্তীতে একটা কাজে রংপুরে যেতে হয় একদিনের জন্য; সেখানেও একই প্রশ্নের মুখে বিব্রতকর একটা পরিস্থিতিতে পড়ে যাই, যা ধীরে ধীরে স্প্রেড করতে থাকে!


কিছু কিছু মানুষের মধ্যে হয়ত একটা চিন্তা/প্রশ্নও জন্ম নেয়: ‘তবে কি সাম্য রাইয়ানও শেষপর্যন্ত...?’ এই ভাবনা হয়ত স্বাভাবিক বাঙলাদেশের প্রেক্ষাপটে, যেখানে অজস্র সাজ্জাদ শরীফ, মজনু শাহ্দের মতো উদাহরণ হাতের নাগালেই রয়েছে।


রংপুরেই প্রথম চিঠিটা দেখি একটা বইয়ের দোকানে, যিনি দোকানে বসেন, দুলাল ভাই, চিঠিটা দেখান; বেশ আশ্চর্য হই, কবি আহমেদ মওদুদকে ফোন করি (তার নামও চিঠিতে উল্লেখ আছে), আর কাকে ফোন করব, কার সাথেই বা আমার যোগাযোগ আছে, কাকেই বা আমি চিনি, কিন্তু আশ্চর্য—তিনিও কিছুই জানেন না, আমার মতোই অবস্থা তারও, একই ঘটনার ‘শি কা র’ !  এই বিষয়ে আর সংশ্লিষ্ট কার সাথে কথা বলব, আমিতো কোনদিন ঐ পত্রিকার নামও শুনিনি, সম্পাদককে চেনারতো প্রশ্নই আসে না। বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠানের বদৌলতে ক্রমাগত— শোষিত শ্রেণি থেকে আসা মানুষদেরই ব্যবহার করা হচ্ছে শোষিত শ্রেণির প্রতিগোষ্ঠী হিসেবে। প্রতিগোষ্ঠী; হ্যাঁ—, পাল্টা—বিপরীত গোষ্ঠী হিসেবে। এরাই সমাজে শোষকের খাবারের ফেলে দেয়া অংশ উদরপূরণের লক্ষ্যে গলাধকরণ করে শোষকশ্রেণির প্রতিনিধি হয়ে শোষিতের বিপরীতে অবস্থান নেয়।


এমন সময়ে মনে পড়ে এই ঘটনার শিকারতো আমি এবারই প্রথম নই, যখন নাইন-টেনে পড়ি তখন একবার জাতীয় কবিতা পরিষদও একই ঘটনা ঘটিয়েছিল, আমার সাথে কোনরকম আলাপ না করেই আমন্ত্রিত কবির তালিকায় আমার নাম ছেপে দিয়েছে, তখন সেগুলো আমলে নেইনি, হেলায় উড়িয়ে দিয়েছি; এইসব মিনমিনে-ন্যাকামি টাইপের অনুষ্ঠানে কোনদিন যাওয়ার ইচ্ছে হয়নি।

তোমার ঐ বৃক্ষ বেশ উপকারী বটে
তবে জন্মস্থানহেতু, তা
অবিকশিত রবে


লেখা ছাপার ক্ষেত্রে আমিযে সব পত্রিকায় লেখা দিই না তা পরিচিতজনমাত্রই জানেন, এমন অবস্থায় হঠাৎ কখনো এমন কোন পত্রিকায় দেখি আমার লেখা, যেখানে কোনদিনই আমি লেখা দেইনি, দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না; আবার কোথাও এমনও হয়েছে— সূচিতে-বিজ্ঞাপনে আমার নাম ছেপে দিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে ভেতরে আমার কোন লেখা নেই। এইসব আয়োজনে সাহিত্যের ইতরবিশেষ লাভ হয় বলে মনে করি না। বরংচ শিল্পি এইসব জায়গায় চিড়িয়ার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। অশিক্ষিত মোড়ল-মহাজনদের কবিতা শোনাতে যাওয়া কেবল আত্মমর্যাদাবোধহীন সুযোগ-সন্ধানী মানুষের পক্ষেই সম্ভব! এখানে-এভাবে শিল্পের মূল্যায়ন হয় না, বরংচ শিল্পি হাস্যকর বস্তুতে পরিণত হন ক্রমাগত—।


তাই এইসব শিল্পধর্ষকদের প্রতি
আমাদের অবিকল্প মূত্রপাত


কত বলব—কত প্রতিবাদ জানাবো—ঘেন্না ধরে যায়—! কবিতা পাঠের আয়োজনে অতিথি/আলোচক হবার কথা ছিল প্রকৃতপক্ষে পাঠক/কবি/সমালোচকদের। কিন্তু এইসব— প্রতিষ্ঠান যা করে— তা আমি অন্যত্র বিস্তারিত বলেছি [ অট্টহাসি কল্পনা করিয়া মুচকিহাসিদেনেওয়ালা যুবক এবং ভালোবাসাবাসির নামে পোদঘষাঘষিতে অভ্যস্ত কতক সংস্কৃতিজীবীর খ্যাতির চূড়ায় আরোহনের গল্প ]। যেহেতু আমার লেখার ক্ষেত্রে বুর্জোয়া কপিরাইট আইনও বলবৎ রাখিনি প্রতিষ্ঠানবিরোধী কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে—এই সুযোগটিই ওরা কাজে লাগায় খুব সুচারূভাবে। তারা খুব সচেতনভাবে, টার্গেট করে সাহিত্য-সংস্কৃতিতেও নিজেদের প্রয়োজনমাফিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করে বুর্জোয়া শাসনব্যবস্থা জারি রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে। আর এইসব প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যই যেহেতু শোষকশ্রেণির প্রতি সম্মতি উৎপাদন, তাই সচেতন লেখকমাত্রই এদেরকে চিহ্নিত করে নিরন্তর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নিজের সৃষ্টিশীলতা বজায় রাখেন। এই লেখকদের ক্ষেত্রে একটা সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান কোন পাল্টা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে না; আশায় বুক বাঁধে এই ভেবে যে, একদিন এই লেখক আমার দুয়ারেই মাথা ঠুকবে। তারা বরংচ এই লেখকদেরকে মুখে সমর্থন ক’রে, কখনো কিছু কিছু আধা বিপ্লবী লেখাও প্রকাশ ক’রে নিজেদের সত্যিকার চরিত্রকে আড়াল করতে চায়। কখনো তারা তাদের প্রচলিত পুরনো চিন্তাকেই পাঠকের কাছে স্বাদ বদলের জন্য প্রতিচিন্তা / বিকল্পচিন্তা এরকম হরেক আবরণে মোড়কায়িত করে হাজির করে।

          তা ই  এ ই স ব  শি ল্প ধ র্ষ ক দে র  প্র তি
          আ মা দে র  অ বি ক ল্প  মূ ত্র পা ত ●●●

বেশ বুঝতে পারি, অনেকে আমাকে ব্যবহার করতে চায়, আমার নামটুকু, কেউ কেউ করছেও। ওদের বিশাল মাইক আছে, ব্যপক প্রচারণার ফাঁদে ওরা সহজেই পাঠককে আঁটকে ফ্যালে, ওদের প্রচারসংখ্যা অনেক বেশি—রয়েছে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।

আর আমাদের প্রকাশমাধ্যম, লিটলম্যাগাজিন, কতো কপিই বা ছাপা হয়, বড়জোর ২০০-৪০০-১০০০, (প্রকৃত পাঠক যতোজন); এমন অবস্থায় কী করবো, তবুও, আমার কয়েকজন প্রকৃতপাঠকের জন্য আমার অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন ছিল—এভাবেই।


পূর্বোল্লেখিত ঐ লেখাটি থেকে খানিকটা উদ্ধৃত করি:  “ঐ যজ্ঞক্ষণে আলোঝলমলে উৎসবস্থলে শুরু হয় যজ্ঞ। চতুর্দিকে টাকার গন্ধ আর বেলিফুলের সৌরভ। একে একে বক্তৃতা করেন অত্র এলাকার খ্যাতিগ্রহনলক্ষ্যে ইনভেস্টারমহোদয়গণ। পুরস্কার গ্রহন করেন মহান ঐ সংস্কৃতিজীবীনেতা, যার অবদান এই বাঙলার বর্তমান সরকার ভুলতেই পারে না [এই বাঙলায়─ এই মহান সংস্কৃতিজীবীদের অবদান─চেহারা─বাসস্থল এবং সেইসাথে এই রাজপথেরকর্মী─কলমসৈনিক─‘মুক্তিযুদ্ধেরপক্ষের’ মহানায়কগণও সরকার পরিবর্তনের সাথেসাথে পরিবর্তিত হন কি-না..!]; পুরষ্কারের ক্রেস্ট বগলে চেপে তিনিও বিবৃত করেন এজাতির উদ্দেশে, পবিত্রবাণী/জ্ঞানেরকথা! দুলুমিয়ারা শোনে আর অন্ডকোষ চুলকায়।”
এমন একটা বন্দুক তৈরি করতে হবে
যা দ্বারা হাজার বছরের
জরাজীর্ণ
এই ব্যবস্থাটাকেই
নিঃশেষ করে দেয়া সম্ভব, অনায়াসে

0 comments: