আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১৯৯০ এরপর থেকেই দেখা যায় প্রত্যেকবার সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে একমাত্র আলোচনার বিষয়, ‘ক্ষমতাসীন দল নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে’। এবারো তাই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শুরু হয়েছে একই আলোচনা। আর এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রতিবারের ন্যায় এবারো একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন, ‘দলীয় সরকার নাকি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে?’ আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার জোড় গলায় বলছেন, তাদের দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতন্ত্রে যেভাবে নির্বাচন হয়, সেভাবে এদেশেও নির্বাচন কমিশনের দ্বারাই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার মতে, দেশে স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন আছে। আরো আছে স্বাধীন বিচার বিভাগ, আছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ‘সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব’ এই প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী সংসদের উপনির্বাচন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন, ইউপি নির্বাচনের উদাহরণ টানছেন। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অনেকদিন ধরেই আগের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে আসছে নানা অরাজকতা সৃষ্টি করে।


অথচ ১৯৯৬ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন তারাও তাদের সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছিল। তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ তার বিরোধীতা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করে নির্বাচন বর্জন করেছিল। তখন বিএনপি যে যুক্তি হাজির করেছিল আজ আওয়ামী লীগও একই যুক্তি হাজির করছে। আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হল, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে যদি বিদ্যমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হতে পারে তবে বাংলাদেশে হবে না কেন? এই যুক্তি বিএনপি আজ মানছে না। অথচ ১৯৯৬ সালে এই একই যুক্তি বিএনপি শুনিয়েছিল, আওয়ামী লীগ মানেনি। কারণ এই দুই বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল নিজেদের চরিত্র সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। এই দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলেই তার দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন করে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চায়। এরা জানে, ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এরা এতোটাই দুর্নীতি, শোষণ, লুন্ঠন করেছে যে, পরবর্তীতে আর ‘নির্বাচিত’ হওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব।

কমরেড বদরুদ্দীন উমরের একটি বক্তব্য দিয়ে শেষ করতে চাই, যে আওয়ামী জোট সরকার এখন জনগণের জীবন শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়নে জর্জরিত রেখেছে, তাদের তারা আগামী নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় বসাবেন এমন সম্ভাবনা নেই। কোনো সুদূরপ্রসারী ও মৌলিক পরিবর্তন এদেশের জনগণ তাদের সংগঠিত রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সাধন এখনও পর্যন্ত করতে না পারলেও সাক্ষাৎ নির্যাতককে সুযোগ পেলে শাস্তি দিতে তারা কোনো সময়েই পিছিয়ে থাকে না। নির্বাচনের মাধ্যমে অন্যকিছু হোক আর নাই হোক, এই সুযোগ তাদের জন্য উপস্থিত হয়।

আগামী সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ সেই সুযোগের ব্যবহারের জন্যই অপেক্ষা করছে।

৩০.০১.২০১৩



0 comments: