এই ব্যবস্থার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত নারী বা পুরুষ নয় জনগণ ধর্ষিত হতেই থাকবে

প্রায় প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই দুই-তিনটা ধর্ষণের খবর চোখে পড়েই। এটাই যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে! ধর্ষণকারী সর্বত্রই পুরুষ এবং তার পেশা কখনো শিক্ষক, কখনো বাসের ড্রাইভার, কখনো দাড়োয়ান, কখনো ছাত্র, কখনোবা বেকার প্রভৃতি। তবে এদের পেশা যাই হোক না কেন, একটি ক্ষেত্রে এদের প্রায়ই মিল থাকে, আর তা হল এরা প্রত্যেকেই কোন না কোনভাবে বুর্জোয়া সংস্কৃতির তল্পিবাহক!

আর এইরকম একেকটা ঘটনা ঘটার পর কর্তৃপক্ষের সে-ই ভারিক্কি গলার আওয়াজ, ‘জি, বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আমরা যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেব, ইতোমধ্যেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’




এই ধরণের কথাবার্তায় মেজাজটাই খারাপ। কেননা প্রকৃতপক্ষে কর্তৃপক্ষ সর্বোতভাবে চেষ্টা করছে ঐ ধর্ষককে রক্ষার! এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেক কথা, অনেক শো, অনেক ব্যবসা, বিশেষ আয়োজন, আরো কতো কী! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনাগুলোর কোনটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দালাল বুর্জোয়া শাসিত একটি ব্যবস্থায় এরকম অজস্র ঘটনা ঘটতেই থাকবে। কেননা এই ব্যবস্থাটাই যে নড়বড়ে! এর প্রতিটি কলকব্জাই নড়বড়ে! এরকম ধ্বংশোন্মুখ ব্যবস্থায় জনগণ নির্যাতিত, নিপীড়িত, সর্বোপরি ধর্ষিত হবে নানাভাবে, নানান উপায়ে; এই কষ্টকর সত্যটি আমাদের স্বীকার করতেই হবে।

যেদিন এই ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে, সেদিনই মানুষের মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবে মানুষ।

২৯.০১.২০১৩

প্রবন্ধটি রাফখাতা, দ্বন্দ্ব-এ প্রকাশিত হয়েছিল।


0 comments: