Previous
Next

সর্বশেষ

বরই পাতার দেশ

বরই পাতার দেশ

 
অসুস্থ ভোরের মুখে দাঁড়িয়ে
ভাবি, কার কাছে যাবো!
বরই পাতার দেশ, উপ-দেশ
                           এ কেমন ঝরনাধারা?

জ্বরের মূর্ছনা! ভোর থেকে রাত৷

কবরভূমিতে দাঁড়িয়ে
থাকে, অন্ধকার ফলানো
                          চুপচাপ গাছ৷

মরহুম পাতাগুলি শুধু
আটকে থাকে জীবনের পরে৷
সহজ বেদনা নিয়ে
অর্ঘ্যডালা জাগে
জ্বরের মৌনতা ভেদ করে৷



কবর দেখতে দেখতে

কবর দেখতে দেখতে

 
 
পৃথিবীর পথে রয়েছে অগণিত রেখা৷
বেলা শেষ;     বোনের কবরের পাশে
মোমবাতি হাতে দাঁড়াবে বিষণ্ন মেয়ে৷
বেলা উ ঠ ছে৷ বেলা না ম ছে
দূরের বৈঠকখানায় কুচকাওয়াজ
আমার চিবুক থেকে উড়ে যাচ্ছে
                       কয়েকটি যুদ্ধবিমান…

অনলাইন লিটলম্যাগ বলতে কী বোঝায়?

অনলাইন লিটলম্যাগ বলতে কী বোঝায়?


দুই হাজার ছয় সালে যখন প্রথম একটি সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করি, তখন নিজেদের কয়েকজনের লেখা প্রকাশ ব্যতীত কোনও উদ্দেশ্য-ভাবনা ছিলো না। আরেকটু পূর্বের কথা, আমরা কয়েকজন ক্লাসমেট যেহেতু কবিতা-গল্প লেখার চেষ্টা করছি, তো সেইটাকে প্রকাশ করলে কেমন হয়। কিন্তু চিন্তা হলো প্রকাশ করবো কোথা? ছোয়াদ নামে আমার এক বন্ধু ছিলো; সে বললো, ‘চল বই বের করি।’  আমরা বাকি চার-পাঁচজন ভাবলাম উত্তম প্রস্তাব। পরে মহাত্মা রাশেদুন্নবী সবুজের সাথে পরামর্শ করতে গেলাম। যেহেতু তিনি ওইসময় কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্র ইউনিয়নের মুখপত্র ‘মঞ্চ’ প্রকাশ করতেন। তার সাথে পরামর্শ করার পরে খরচাপাতির কথা শুনে আমরা রণেভঙ্গ দিলাম। তার কিছু পরে ‘মঞ্চ’ আমার কবিতা প্রকাশ করলো, জীবনে প্রথমবার। সংখ্যাটি প্রকাশের প্রক্রিয়া খুব কাছে থেকে দেখলাম, পরের সংখ্যা প্রকাশও খুব কাছে থেকে দেখলাম। তখন মনে হলো এরকম করে আমিও তো একটা সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করতে পারি ক্ষুদ্রাকৃতির, মাত্র একটি এ-ফোর কাগজ এপিঠ ওপিঠ ফটোকপি করে ফোল্ডার। অবশ্য পরে ফোল্ডার করিনি। তবে রাশেদুন্নবী সবুজকে সেই মতো প্রস্তাব দিলাম। কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর তিনি উত্তর দিলেন, ‘লেখা যোগাড় কর। আর পত্রিকার নাম ঠিক কর।’ আজ আর অত মনে নাই কী কী নাম ভেবেছিলাম ঐ সময়; তবে শেষমেশ ‘বিন্দু’ নামটা ঠিক করলাম। আর কয়েকটি লেখাও যোগাড় করে ফেললাম। পুরোনো বন্ধু, যাদের সাথে বই প্রকাশের কথা ভেবেছিলাম প্রথমে তাদের লেখা নিলাম। দুই হাজার ছয় এর মার্চে প্রকাশিত হলো বিন্দুর প্রথম সংখ্যা। প্রথমদিকে কয়েকটি সংখ্যা ফটোকপি করে প্রকাশের পর আমরা প্রেসে ছাপতে শুরু করেছিলাম। এরপর দুই হাজার দশ সালের প্রারম্ভে বিন্দু কুড়িগ্রামের গন্ডি পেরুতে পারলো প্রথমবার। এরপর ক্রমাগত সার্বিক দিক থেকে পরিধি বৃদ্ধি হয়েছে।

দুই হাজার এগার সালের দিকে প্রথম ভাবলাম অনলাইনে লেখা প্রকাশের বিষয়ে। তখন ‘অনলাইন বিন্দু’, ‘ইবিন্দু’ এরকম নাম দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিন্দুর ব্লগ চালু করেছিলাম। কিন্তু আমার সীমাবদ্ধতার জন্যই তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়নি। দুই হাজার বারো সালে ‘দি টোকা’ নামে আরেকটি অনলাইন সাহিত্যপত্রিকা চালু করেছিলাম, যা পরবর্তীতে 'দিব্যক' নাম ধারণ করে প্রকাশিত হচ্ছে।

পরবর্তী সময়ে দুই হাজার চৌদ্দ-পনের সালের দিকে ‘চারবাক’ ও আরও কয়েকটি সাহিত্য পত্রিকা অনলাইনে প্রকাশ করার ব্যাপারে আমি তৎপর হয়ে উঠলে বাঙলাদেশের প্রাচীনপন্থী রক্ষণশীল লিটলম্যাগ গোষ্ঠী রৈ রৈ রব উঠায়, ‘জাত গেল জাত গেল...’। যেন ‘লিটলম্যাগের মতো একটা পবিত্র ব্যাপারকে সাম্য অনলাইনে নিয়ে গেল! যেখানে কত কত বাজারি জিনিস রয়েছে সেখানে কেন লিটলম্যাগ থাকবে? অনলাইন সংস্করণ থাকবে শুধুই বড় কাগজের, ছোট কাগজের না।’ কিন্তু আমার মাথায় অন্য ভাবনা। বলব সে কথা। কিন্তু সেই রক্ষণশীল গোষ্ঠীটিকেই দেখা গেল দুই হাজার সতেরোয় তারা নিজেই আর রক্ষণশীল থাকতে পারলো না, নিজেদের ওয়েবসাইট করে ফেললো। অবশ্য এক বছরও তা চালাতে পারেনি, টেনেটুনে কয়েক মাস। কিন্তু লক্ষ্য করতে হবে, কী এমন বিষয় অনলাইনে রয়েছে, যা তাদের মতো রক্ষণশীল গোষ্ঠীকেও টেনে নিয়ে আসে? এই শতাব্দীতে তাহলে অনলাইন ছাড়া উপায় নাই? না কি ফ্যাশন? প্রত্যেক জামানায় কিছু প্রযুক্তির বিশেষ উদ্ভাবন থাকে যা ঐ জামানায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে, জামানাকেই প্রভাবিত করে। যেমন বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক বাতি ইত্যাদি আরো অনেক অনেক উদাহরণের কথা বলা যেতে পারে। তেমনই এই জামানায় এরকম জ্বলজ্বলে ঘটনাটি ইন্টারনেট। বাঙলাদেশের মতো একটি দেশ যেখানে দুই হাজার উনিশ সালেও পাঁচ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে কৃষক আত্মহত্যা করে, দুইশ টাকা পারিশ্রমিক পাবার আশায় কোর্টে অপরাধীর প্রক্সি হিসেবে হাজির হয়, টাকার অভাবে মা তার সন্তানকে বিক্রি করে দেয় কিংবা পথে ফেলে যায় সেই দেশেও এশিয়ার সবচেয়ে চড়া দামে ইন্টারনেট কিনে ব্যবহার করে দশ কোটি লোক। ফেসবুকে একাউন্ট নাই এমন মানুষ খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। এটির বদৌলতে এদেশের আঠার কোটি জনগণ আর দশ লাখ রোহিঙ্গা, প্রায় সবাই এখন সেলিব্রেটি। আধ মিনিটের জন্য হলেও সেলিব্রেটি হওয়া এখন সকলের নিয়তি খন্ডানোর উপায় নাই। যে মিডিয়া আপনি দেখতেন বাঙলাদেশের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোলের কুত্তা, সেই মিডিয়ার আজ কোনো মূল্য নাই জনগণের কাছে। বরং এরা সরকার-কর্পোরেটের ভাঁড়ে পরিণত।

আগে আমরা দেখতাম সংবাদপত্রের (আসলে হবে বুর্জোয়া প্রচারপত্র) শুক্রবারের ফাও সাময়িকীর লোভে পত্রিকা কেনার প্রচলন ছিলো। আমি নিজেও কিনেছিলাম স্কুলে পড়ার সময়, কিন্তু এই সাহিত্যপাতা এখন কাউকে কিনতে-পড়তে দেখি না। যে পত্রিকা ছাপা হয় চৌদ্দ লাখ, তার সাহিত্যপাতাও ছাপা হয় চৌদ্দ লাখ। কিন্তু লক্ষ্য করবেন কয়েক বছর থেকে ওসব কাগজের লেখকেরা প্রকাশিত লেখাটির ছবি তুলে, স্ক্রিনশট নিয়ে, পিডিএফসহ নানাভাবে ফেসবুকে আপলোড করে, ইনবক্সে পাঠিয়ে লোকেদের পড়ানোর চেষ্টা করছে। এর কারণ, ওই লেখকরাও এটা জানেন যে ওসব সাহিত্যপাতা এখন আর কেউ পড়ে না। এখন ওখানে লেখে অভাবী লোক, যাদের যে কোনও মূল্যে টাকা/পাওয়ার/সামাজিক সম্মান দরকার। একই কথা কলামনিস্টদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রতিদিন হাজার পত্রিকায় হাজার কলাম প্রকাশিত হয়, কিন্তু লোকে পড়ে না। কারণ লোকে জানে, লোকে শিক্ষিত; লোকে জীবন থেকে শিখেছে যে, ওসব নানাভাবে ক্ষমতাবানদের তৈলমর্দন ভিন্ন কিছু নয়। তাই লোকে পড়ে না। এখন কলামনিস্টরা তাই চৌদ্দ লাখ কপি  প্রকাশিত পত্রিকায় থাকা তার কলামটিরও ছবি তুলে ফেসবুক কিংবা ইনবক্সে দিতে বাধ্য হচ্ছেন আবার কখনো লিংক দিচ্ছেন। কেন এই কাজে ওই লেখক বাধ্য হচ্ছেন তা আমরা দেখতেই পাচ্ছি। উন্মুক্ত মিডিয়ার কাছে রক্ষণশীল-বুর্জোয়া মিডিয়ার মার খাবার দিন চলছে এখন। উপায় নাই গোলাম হোসেন।

এমন দিনে আমরা চাইছি সাহিত্যের প্রকৃত মিডিয়া গড়ে তুলতে। যে মিডিয়া আমাদের সাহিত্যের ক্ষতস্থান দিনের আলোর সামনে উন্মুক্ত করে দিবে, যে মিডিয়া আমাদের কাটা ঘায়ে চার রঙ সাথে লেমিনেশন করে পরিবেশন করবে না। সেই মিডিয়াকে আমরা ডাকছি ‘লিটলম্যাগ’ বলে। প্রচলিত ধারনামতে, ‘লিটলম্যাগ কাগজে প্রিন্ট করে প্রকাশিত হয়।’ যুগ যুগ ধরে এটাই হয়ে আসছে। কারণ যুগ যুগ ধরে কাগজ নামক বস্তুটির কোনও বিকল্প ছিল না। কিন্তু কাগজে প্রিন্ট না করে অন্য কোনও উপায়ে উত্তম প্রকাশ ঘটানো গেলে কেন তা হবার নয়? আমরা বিন্দু ওয়েবসাইট www.bindu.bangmoy.com করতে অনেক দেরি (২৬ মার্চ ২০১৯) করে ফেললাম। আরও আগেই করা দরকার ছিলো। দুই হাজার আঠারোর বইমেলায় যখন বিন্দুর স্টল ভেঙে দিলো বাংলা একাডেমি, তখন বিস্তারিত ঘটনা কোনও মিডিয়া জানায়নি। আমরা নিজেরা ফেসবুক স্ট্যাটাসে যতটুকু জানাতে পেরেছি ততটুকুই। আর কাগজে প্রিন্ট করে তা ঐ সময়ে বৃহত্তর পাঠক সমাজের কাছে পৌঁছে দেয়া আমাদের সাধ্যের বাইরে। তখনই প্রচন্ডভাবে অনুভব করলাম আবারও, বিন্দুর ওয়েবসাইটের কথা।

অনলাইনে লিটলম্যাগের কনসেপ্ট ধারন করে আমাদের আগে তিন-চারটি ওয়েবসাইট চালু হলেও সম্ভবত এক-দুইটি টিকে আছে। এর কারণ প্রথমত অনভ্যস্ততা, দ্বিতীয়ত রেগুলারিটি মেইনটেইন করতে না পারা। প্রিন্ট একটি সংখ্যা প্রকাশ করতে এক মাস শ্রম দিলেই যথেষ্ট, এমনকি এক সপ্তাহ শ্রম দিলেও তা সম্ভব। কিন্তু অনলাইনে তা সম্ভব নয়, তাকে নিয়মিত প্রকাশ-রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। প্রকাশ ছাড়াও হ্যাক হওয়া ও আনুসঙ্গিক বিষয় সেখানে যুক্ত থাকায় এক-দুই সংখ্যা লিটলম্যাগ প্রকাশের মতো করে অনলাইন চালানো সম্ভব নয়।

বাঙলাদেশে যে অনলাইন সাহিত্য পত্রিকাগুলো প্রকাশিত হচ্ছে তাদের চরিত্রের দিকে নজর দেয়া যাক। পাঠক, এবারে আপনি চোখ বন্ধ করে তিন ধরনের সাহিত্য পত্রিকার চরিত্র মনে করার চেষ্টা করুন। প্রথমত সংবাদপত্রের সাময়িকী (সমকালের কালের খেয়া, প্রথম আলোর ‘সাহিত্য সাময়িকী’, কালের কণ্ঠর ‘শিলালিপি’, বণিক বার্তার ‘সিল্করুট’, সংবাদের ‘সাময়িকী’ ইত্যাদি), দ্বিতীয়ত লিটলম্যাগগুলো (জঙশন, গান্ডীব, শিরদাঁড়া, বিন্দু, সূর্যঘড়ি, প্রতিশিল্প, চারবাক, কামারশালা, বিরাঙ ইত্যাদি), তৃতীয়ত অনলাইন সাহিত্য পত্রিকাগুলো (কালি ও কলম, পরস্পর, শিরিষের ডালপালা, অলস দুপুর, চিন্তাসূত্র, বাছবিছার ইত্যাদি)। এই তিন ধরনের পত্রিকার মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধরণ আগে থেকেই বাজারে হাজির ছিলো, তৃতীয় ধারাটি নতুন এসেছে। তৃতীয় ধারাটি অনেকটা কমন জেন্ডার ধরনের ব্যাপার; বড় কাগজের বৈশিষ্ট্য আছে আবার তার বাইরেও বৈশিষ্ট্য আছে। প্রচলিত যে অনলাইন সাহিত্য পত্রিকাগুলো আছে সেগুলোর চরিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এগুলোর লেখা সংগ্রহ ও প্রকাশের ধরন অনেকটা প্রথম ধরণটির মতো। কিন্তু প্রথম ধরণটির মতো অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা বাজারে হাজির থাকলেও দ্বিতীয় ধরনটির মতো অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা যারা লিটলম্যাগকর্মী, এইটিই আমাদের কাজের ক্ষেত্র। আমরা পত্রিকা তৈরি করি, বিলি করি, লেখাকে যথাযথরূপে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেবার ইচ্ছে থেকেই। তাহলে অনলাইনে যখন কাজটির ব্যাপ্তি ঘটাবার সময় এসেছে তখন আমাদের প্রতিক্রিয়াশীলের মতো বক্তব্য দিলে চলবে কী করে? কাগজে লিটলম্যাগ হতে পারলে তা অনলাইনেও হতে পারে। আমরা বিন্দুকে অনলাইন লিটলম্যাগ হিসেবেই গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। সম্প্রতি অনলাইনে এই ধরনের কাজ করছে charbak.com, walkingo9.blogspot.com, ও ulukharbd.com।

এখন যে মানুষটি এই তথ্যটিও জানে না যে, গুগল একটি সার্চ ইঞ্জিন সে-ও জানে যে, কিছু খুঁজতে হলে গুগলে সার্চ করতে হবে। গুগল ছাড়াও ডাকডাকগো এর মতো অনেক সার্চ ইঞ্জিন আছে, সেটাও হয়তো জানে না। কিন্তু খুঁজতে হলে আগে গুগলে লিখে ক্লিক করতে হবে এই তথ্য লোকেদের জানা। এমন অবস্থায় বাঙলাদেশে লক্ষ্য করবেন, ‘বাঙলা’ লিখে সার্চ করলে আগে ‘বাঙলা চটি’ চলে আসে, ‘বাঙলা কবিতা’ বা ‘বাঙলা সাহিত্য’ কিন্তু আসে না। ‘বাঙলা লিটলম্যাগ’ লিখে সার্চ করলে কিছু ‘ইছলামী পত্রিকা’ চলে আসে, ‘লিটলম্যাগ’ আসে না। এই অবস্থায় আমরা একদিকে বুর্জোয়া মিডিয়ার কাছে মার খাচ্ছি, অপরদিকে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর কাছে হেরে যাচ্ছি; পাঠক প্রতারিত হচ্ছেন। ‘লিটলম্যাগের কবি’ লিখে সার্চ করলে শামীম কবির বা নাভিল মানদার বা আরণ্যক টিটো বা আহমেদ মওদুদ আসে না, আসে তার নাম- যাকে বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠান কবির মুখোশ পড়িয়ে রেখেছে। এই মুখোশ খুলে প্রতিষ্ঠানের এইসব নোংরা কারসাজি বন্ধে লিটলম্যাগকর্মীদেরই তো অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। তাছাড়া আর কে নিবে? প্রতিষ্ঠান কি  চাইবে যে লিটলম্যাগের প্রতিষ্ঠানবিরোধী কবিকে ‘কবি’ হিসেবে পাঠকের সামনে হাজির করতে? তাহলে এই দায়িত্ব কার? আমরা যেভাবে কাগজে প্রিন্ট করে পাঠকের সামনে প্রকৃত লেখক-শিল্পীকে হাজির করি, তেমনিভাবে অনলাইনেও এই কাজটি করতে হবে। লিটলম্যাগের লেখকদের বই, লেখা তুলে ধরতে হবে।

এবার আসি এই প্রসঙ্গে যে, লিটলম্যাগের অনলাইনে ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগ খুলে করা যাবে কী না। এই প্রশ্নের উত্তর জানবার আগে এই প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার যে, ‘লিটলম্যাগ কী?’ এ প্রসঙ্গে আমি কয়েকটি বক্তব্য আপনার সামনে হাজির করতে চাই।

“লিটল ম্যাগাজিন : বলেই বোঝা গেল যে জনপ্রিয়তার কলঙ্ক একে কখনো ছোঁবে না, নগদ মূল্যে বড়োবাজারে বিকোবে না, কিন্তু-হয়তো-কোনো-একদিন এর একটি পুরোনো সংখ্যার জন্য গুণিসমাজের উৎসুকতা জেগে উঠবে, সেটা সম্ভব হবে এইজন্যই যে, এটি কখনো মন জোগাতে চায়নি মন জাগাতে চেয়েছিল। চেয়েছিল নতুন সুরে নতুন কথা বলতে; কোনো এক সন্ধিক্ষণে যখন গতানুগতিকতা  থেকে অব্যাহতির পথ দেখা যাচ্ছে না, তখন সাহিত্যের ক্লান্ত শিরায় তরুণ রক্ত বইয়ে দিয়েছিল নিন্দা, নির্যাতন বা ধনক্ষয়ে প্রতিহত হয়নি। এই সাহস, নিষ্ঠা, গতির একমুখিতা, সময়ের সেবা না করে সময়কে সৃষ্টি করার চেষ্টা- এইটেই লিটল ম্যাগাজিনের কুলধর্ম।”
-বুদ্ধদেব বসু; লিটলম্যাগ ‘প্রগতি’ ও ‘কবিতা’ সম্পাদক

“আমার কাছে লিটল ম্যাগাজিনের মধ্যে কোনো লিটল ব্যাপার নেই, তা বাণিজ্যিক সাহিত্যের কোনো পরিপূরক নয়, প্যারালাল। লিটল ম্যাগাজিন হচ্ছে সাহিত্যের বিশিষ্ট একটি দৃষ্টিভঙ্গি, বেপরোয়া, রবীন্দ্র-পরবর্তী বাঙলা সাহিত্যে যা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে, হয়ে উঠছে।  ... লিটল ম্যাগাজিনের মূলধন হচ্ছে সমস্ত রকম স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে তার বিপ্লবাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহস। বড় কাগজ, সাহিত্যের বাণিজ্যসফল কাগজ, যা, যেসব ছাপতে ভয় পায় তাই ছাপবে লিটল ম্যাগাজিন যা কখনোই এই আর্থ-সামাজিক পরিবেশে বাণিজ্যিক নয়, বরং মৌলিক, একগুঁয়ে, যা পরীক্ষানির্ভর। কখনো কখনো উস্কানিমূলকও। খ্যাতিমানের অনুগ্রহে এক-আধ পৃষ্ঠায় এঁটোর তোয়াক্কা সে করে না। পুরনো কালের সৃষ্টিশীল বিষয়গুলো পুনরাবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে সমসাময়িককালে নতুন কে কি লিখছে তার একটা ধারণা তুলে ধরার দায়িত্ব লিটল ম্যাগাজিনের। প্রচলিত ধ্যান-ধারনাগুলোর ফাঁপা জায়গাটা সে দেখিয়ে দেবে, সমস্ত রকম ভাঙচুর আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করার দায়িত্ব তার, সাহিত্যের সবরকম আর সব দিকের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখার - আর সেই সূত্রেই একধরনের বেপরোয়া আর বেহিসাবি তার ভঙ্গি। আগামী প্রজন্মের সমস্তরকম প্রশ্ন-চিহ্নের প্রতি তার থাকবে পিতৃ-প্রতিম সহানুভূতি। লিটল ম্যাগাজিন যেহেতু মূলত সাহিত্য-সংস্কৃতি নির্ভর, তাই এ বিষয়ে নানারকম মত থাকবে, থাকতে পারে, সে-সবকেই তুলে ধরবে লিটল ম্যাগাজিন- কেননা তাইই প্রবাহিত মনুষ্যত্ব, তাই জীবনের লক্ষণ।”
- সুবিমল মিশ্র; প্রতিষ্ঠানবিরোধী কথাসাহিত্যিক

লিটল ম্যাগাজিন বলতে বুঝি যেটা সাহিত্যের নতুন পালাবদলকে ধারণ করে। যে কাগজের ভেতর দিয়ে সাহিত্য নতুন পথের দিকে পা দেয়- এটাকে বলে লিটল ম্যাগাজিন।
- আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ; লিটলম্যাগ ‘কণ্ঠস্বর’ সম্পাদক; বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাতা

“ছোট্ট দুটি ডানায় অনন্ত আকাশকে ধরার স্পর্ধা- তার নাম লিটল ম্যাগাজিন।”
-খোন্দকার আশরাফ হোসেন; সাহিত্যপত্রিকা ‘একবিংশ’ সম্পাদক

“প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ, রাজনৈতিক আর্দশ কিংবা দার্শনিক প্রত্যয়কে আঘাত করার মধ্যেই ছোটকাগজের বৈশিষ্ট্য নিহিত থাকে। কারণ আমরা জানি এক সময়কার বৈপ্লবিক চেতনা  ও তাত্ত্বিকতা জাগতিক ও সামাজিক অগ্রগতির নিয়মেই Radicalism-এ পরিণত হয়। তা সবকিছুকে নিজস্ব ছাঁচে ফেলে বিচার করতে চায়। তাবৎ সমাজ-সংস্কৃতির ত্রাণকর্তা সেজে বসে সে। লিটল ম্যাগাজিন (সত্যিকার অর্থে) এ অর্বাচীনতার তফাৎ দেখিয়ে দেয় আমাদের। দ্ব্যর্থকভাবেই, জ্ঞানতত্ত্বেও এ পর্যায়ে লিটল ম্যাগাজিনগুলো সমাজেরও চিন্তার রুদ্ধ স্রোতকে ভেঙে দেয় অনায়াসেই। মূলতঃ বেঁচে থাকার সক্রিয় চেতনাই একটি লিটলম্যাগকে দেয় হয়ে ওঠার মেজাজ। ... একটি লিটল ম্যাগাজিন শুধুমাত্র সাম্প্রতিককালের চেহারাকেই ধারণ করে না, উপরন্তু ভবিষ্যতের সীমানাও চিহ্নিত করে। একটি সৎ ছোট কাগজ আমাদের বলে দেয় বিপ্লবের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নি। আসলে রাষ্ট্র ও সমাজ নামক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজের মধ্যেই বিরোধিতার বীজ সুপ্ত থাকে। ছোট কাগজগুলো তার অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে। প্রতিষ্ঠান ও প্রথাবিরুদ্ধতার ক্ষেত্র হিসেবে নতুন ভাবুকদের জন্য এটি মুক্তির মোর্চা গড়ে তোলে। সুতরাং কখনো নিয়ন্ত্রিত হবে না এরকম বোধ ও ভাবনাই ছোট কাগজের চরিত্র বৈশিষ্ট্য।”
-এজাজ ইউসুফী; লিটলম্যাগ ‘লিরিক’ সম্পাদক

পাঠক, উপরের কোনও একটি বক্তব্য থেকেও কি এমনটা মনে হচ্ছে যে, কাগজে ছাপানোর বিষয়টি লিটলম্যাগের জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত? শুধুমাত্র মন্দবুদ্ধির লোক ব্যতিত এমত উদ্ভট দাবি কোনও লিটলম্যাগকর্মীর পক্ষে করা সম্ভব নয়। বরং আমরা আমাদের চিন্তাকে আমাদের স্বাধীন মতো প্রচার করার পদ্ধতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের সাহিত্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য আরও কার্যকরী-উন্নত পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়ে চিন্তা করবো। সময়ের প্রেক্ষিতে এমনটাই আমাদের করতে হবে। মূল কথা হচ্ছে ‘বৈশিষ্ট্য’। লিটলম্যাগের যে ‘বৈশিষ্ট্য’ উপরে উল্লেখ করলাম, সেই বৈশিষ্ট্য যদি ঠিক থাকে তাহলে সেটি লিটলম্যাগ। লক্ষ্য করলে দেখবেন যে ‘কাগজে ছাপানো’ ঘটনাটির অনেক বিকল্প গড়ে উঠছে ধীরে ধীরে। এখন অনেকেই কাগজের বই না পড়ে পিডিএফ পড়ে, অডিওবুক শোনে, পডকাস্ট শোনে। অনলাইনে বইয়ের বিকল্প অনেক রকম পদ্ধতি আছে।

তাই নিজের লেখা, নিজেদের লেখা, চিন্তা, আর্ট ছড়িয়ে দেবার জন্য এই সকল মাধ্যমকে যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। লিটলম্যাগ মুভমেন্ট হবে এখন সবদিক থেকে। শুধু প্রিন্ট পদ্ধতিতে আটকে থাকলে হবে না। কাগজে যেমন সাহিত্য পত্রিকার সাথে লিটলম্যাগের ভেদ রয়েছে, তেমনই অনলাইনেও সাহিত্য পত্রিকার সাথে লিটলম্যাগের ভেদ আছে। আমাদের কর্তব্য লিটলম্যাগের সাহিত্যকে অনলাইনে দৃশ্যমান করে তোলা।

আর এই ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে, ‘ওয়েবসাইট ব্যবহারে লোকে অভ্যস্ত না।’ দেখবেন, লোকে অনলাইনে বই পড়তে অভ্যস্ত না কিন্তু পর্ণ দেখতে অভ্যস্ত। যার যেদিকে আগ্রহ সে সেদিকে ঠিকই উপায় করে নেবে। বিচলিত হবার কিছু নাই।

তবে দুশ্চিন্তার বিষয় এটা যে, আমরা যারা লিটলম্যাগ করি, আমাদের শুধু অনলাইন সংস্করণ (একটা ওয়েবসাইট বা ব্লগ) প্রকাশ করা কিছুতেই চলবে না; বরং অনলাইন ও প্রিন্ট দুটোই চালাতে হবে। কেননা অনলাইন সংস্করণের সব থেকে খারাপ দিক হলো এটি হ্যাক করে বন্ধ করে দেয়া যায়; অথবা সরকার যদি চায়, মুহূর্তেই বিনা নোটিশে মাত্র এক ক্লিকেই সাইট বন্ধ করে দিতে পারে। এই দেশে এমন ঘটনা নিউজ ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে হয়েছেও। কিন্তু প্রিন্ট কপি এদিক থেকে অনেকখানি সুবিধা দেয়। বাজেয়াপ্ত হতে পারে বটে, কিন্তু তা কার্যকর হবার ফাঁকেই কিছু না কিছু কপি পাঠকের হাতে পৌঁছে যায়ই। তখন তা পুরোপুরি আটকানো কি আর সম্ভব? তবে ইন্টারনেটে কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে পারলেও তা হাইড করা বিপরীত পক্ষের জন্য অসম্ভব হয়ে ওঠে। তবে এই পর্যায়ের দক্ষতা গড়ে উঠতে সময় লাগবে আরও। আপাতত কয়েকটি লিটলম্যাগ মিলে একটি ওয়েবসাইট বানানোর কথা ভেবে দেখা যেতে পারে। যেখানে সংখ্যাগুলোর পিডিএফ আপলোড করা হবে। তাতে করে প্রতিটি লিটলম্যাগের স্বাতন্ত্র্যও বজায় থাকবে আবার অনলাইনে দৃশ্যমানও হবে। আমি জানি সেই দিন আসবেই; কাগজে বুর্জোয়া পত্রিকার মোড়লগিড়ি/দম্ভ যেমন চূর্ণ হয়েছে লিটলম্যাগের কারণে, তেমনই অনলাইনেও বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠান আর তার তাবেদারদের দম্ভ চূর্ণ হবে অনলাইন লিটলম্যাগের কারণে।
দুই বাঙলার নাট্যোৎসবে দেখা ছয়টি নাটক

দুই বাঙলার নাট্যোৎসবে দেখা ছয়টি নাটক


ঢাকার বাইরে থাকলে নিয়মিত মঞ্চনাটক দেখার সুযোগ হয় না। বিশেষত তা যদি কুড়িগ্রাম ধরনের জেলা হয়, তাহলে তো কথাই নেই। শোনা যায়, মঞ্চের জন্য যে শ্রম দিতে হয় তার মানসিকতার অভাব। লোকে এখন অল্পেই সেলিব্রেটি হতে চায়। শর্টকাট পথ খোঁজে। দেশের আঠার কোটি জনগণ আর দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা, সকলেই এখন ফেসবুক সেলিব্রেটি। আধ মিনিটের জন্য সেলিব্রেটি হওয়া এখন প্রত্যেকের নিয়তি। এমন এক অস্থির সময়ে, শিল্পের কণ্টকাকীর্ণ পথে হাঁটার মানসিকতা কয়জনের থাকে?

একটা নাটক মঞ্চে প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত করাটাও দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। মাসের পর মাস সময় লাগে। তারপর হয় প্রদর্শনী। সর্বোচ্চ এক ঘন্টা হয়তো সেই নাটক নিয়ে মঞ্চে থাকা যায়। কিন্তু সেই তুলনায় নাচ-গান করলে মঞ্চে ফোকাস হবার সুযোগ-সম্ভাবনা অনেক বেশি। একটা গান কোনোরকম গাইতে পারলেই মঞ্চে ওঠা নিশ্চিত। এইসকল কারণে মফস্বলের নাট্যদলগুলো কর্মীসংকটে ভোগে। আর এখন তো সংগঠনের অভাব নেই। সব সেলিব্রেটি ধরণের সংগঠন। ওসবে বেশ একটা অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী স্বেচ্ছাসেবী ভাব থাকে। তাতে বোধয় সেলিব্রেটি হওয়া আর মাল কামানো দুটোই করা যায় নীরবে। ধরুন ‘কম্বল দেয়া’ ধরনের কাজে পরিশ্রমও অল্প; আবার পয়সা খরচ কম করেও ঠিকঠাক ছবি তুলে পত্রিকায় দিতে পারলেই সেলিব্রেটি হওয়া আটকাচ্ছে কে? 

কুড়িগ্রাম শহরে গত বেশ কিছু বছর ধরে জনগণকে নাটক দেখার ব্যবস্থা প্রচ্ছদই করে দিচ্ছে। কুড়িগ্রাম শহরে অঙুলিমেয় সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন যে কয়েকটি আছে তারা মাঝে মধ্যে, দিবসকেন্দ্রিক গানবাজনার মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। এখানকার সবচেয়ে সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠনটি ‘প্রচ্ছদ’, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কাজ করে চলেছে। সাধ-সাধ্য-প্রত্যাশা সমতালে চলে না।

গত ২৭ মার্চ ২০১৯ থেকে ৩১ মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত তারা কুড়িগ্রাম টাউন হলে ‘পাঁচ দিন ব্যাপী দুই বাঙলার নাট্যোৎসব ২০১৯’ আয়োজন করেছে। তাদের জন্যই রংপুর, কুড়িগ্রাম, ঢাকা ও ভারতের কলকাতা, শিলিগুড়ির নাট্যদলের নাটক দেখার সুযোগ হলো। প্রতিটি নাটক দেখেছি আর নোট করেছি কোন নাটক কেমন লাগলো।

প্রথম দিন দেখলাম রংপুর নাট্যকেন্দ্রের পরিবেশনা ‘কানাই চাঁদের নন্দিনী’। বাঙলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ মৈমনসিংহ গীতিকা- যা বাঙলা লোক সাহিত্যকে স্বমহিমায় আলোকিত করেছে। মৈমনসিংহ গীতিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পালা ‘মহুয়া’য় যে চিরায়ত প্রেম বর্ণিত হয়েছে, তা শুধু বাঙলার গ্রামীন নর-নারীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং দেশ কালের সীমা অতিক্রম করে ধ্রুপদী প্রেমের কালজয়ী আখ্যানে রূপ লাভ করেছে। মূল সাহিত্যে দ্বিজ কানাই এর মহুয়া পালার বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক উপস্থাপনার পাশাপাশি নাটকের মূল বিষয়টিকে আধুনিক চিত্তের আলোকে বৈশ্বিক সম্পর্কে উন্নীত করে প্রেমের চিহ্ন অংকনের চেষ্টা করেছেন নির্দেশক লিটু সরকার। তুলনামূলক দীর্ঘ এ নাটকটির নাট্যরূপও তিনিই দিয়েছেন। পুরো নাটক টানতে টানতে বিরক্তিকর পর্যায়ে চলে গেছে। অভিনয়ের কোনো ঠিক ছিলো না; অতিরিক্ত অভিনয়ের চেষ্টা নাটকটির উপস্থাপন দুর্বল করে ফেলেছে।

দ্বিতীয় দিন ছিলো আয়োজক দল অর্থাৎ প্রচ্ছদের নাটক ‘নামানুষ’। হাবিব জাকারিয়া উল্লাস রচিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন বিপ্লব সরকার। প্রথমেই বলে রাখি, উৎসবের সবচেয়ে ব্যতিক্রম নাটক ছিলো এটি। মানবজীবনের বিষয়-আশয় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে এখানে। কাহিনী সংক্ষেপ: মহাজগত রহস্যময়। সভ্যতার বয়স ক্রমশ প্রাচীন হতে থাকলেও বহু প্রশ্নের উত্তর মানুষের অজানা। মূল প্রশ্ন পৃথিবীতে তার জন্ম, জন্মের উদ্দেশ্য এবং মৃত্যু নিয়ে। এ বিষয়ে মানুষ ভেবেছে এবং জন্ম দিয়েছে নানা ধর্ম, দর্শন, সংগঠন, কৃত্য এবং আচার। এই ভাবনাগুলো বিভিন্ন রকমের, অনেক ভাবনার মৃত্যু ঘটেছে এবং জন্ম নিয়েছে নতুন ভাবনা। কেউ ভাবনার আবিষ্কারক, কেউ ভাবনার অনুসারী। এই অনুসরণ অনেকের জন্য তৃপ্তির, স্বস্তির। কিন্তু কারও কারও জন্য তা নয়। যারা বিশ্বাস করে প্রতিটি মানুষ আলাদা অস্তিত্ব, প্রতিটি অস্তিত্ব সব যৌথতার পরেও নিজের মত করে সফল ও বিকশিত হতে চায়। ঠিক সেখানে যখন তার দৃষ্টি যায় তখন সে নিজের অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে চায় মহাজগতের সকল রহস্যের মাঝে, সকল আবিষ্কার ও অনাবিষ্কারের মাঝে। সে বিচার করে দেখতে চায় ‘মানুষ’ বলে যে রূপ-কাঠামো তার সামনে উপস্থিত হয়েছে, তাই চূড়ান্ত কী না? এই কঠিনকে ভালবেসে পাওয়া যাবে কি আত্মসন্ধান? সে পরের কথা, কিন্তু তার আত্মসন্ধানের অভিযাত্রা শুরু হয় ‘না’ বলার ভেতর দিয়ে। না বলবার সাথে সাথে তার দৃষ্টি উন্মোচিত হয় এবং সে দৃষ্টি ক্রমাগত যা দেখতে শুরু করে তারই এক রকমের অভিজ্ঞতার বয়ান এই ‘নামানুষ’।

প্রথমেই বলে রাখি ‘নামানুষ’ নাটকটির এটিই প্রথম মঞ্চায়ন। আমি স্ক্রিপ্টের তিনটি পৃষ্ঠা একদা হাতে পেয়েছিলাম, দ্রুতই পড়ে নিয়েছিলাম ওটুকু। পড়ার পর থেকে এর ব্যাপারে আমি আগ্রহী হয়ে উঠি পুরোটা পড়ার জন্য। এটি মঞ্চায়নের কিছুদিন পরে নির্দেশক আমার আগ্রহ মিটিয়েছিলেন। বলাই বাহুল্য, বেশ ভাল লেগেছিলো পড়ে। এটির মঞ্চায়ন দেখার সুযোগ হলো প্রচ্ছদের কল্যানে। তারা এ ধরনের একটি নাটক মঞ্চায়নের জন্য ধন্যবাদ পাওয়ার দাবি রাখে। মঞ্চায়ন শেষে পরিচিতি পর্বে আমি জানতে পারি যে, যারা এ নাটকে অভিনয় করেছেন তার মধ্যে মাত্র পাঁচজন ব্যাতিত বাকি সকলে জীবনে প্রথমবার মঞ্চে উঠেছেন। আরও অবাক হবার মতো ব্যাপার এই যে, এই নতুন কুশীলবগণ মঞ্চনাটক দ্যাখেননি পর্যন্ত!

মঞ্চে আলোর ব্যবহার ছিলো ত্রুটিপূর্ণ। ঠিক জায়গায় ঠিক আলোর কখনো কখনো ঘাটতি চোখে পড়েছে। সংগীতের ব্যবহার ভাল ছিলো না মোটেই, প্রধানত যেটা আড়াল থেকে আসছিলো। এছাড়া অভিনেতা নিজেই অভিনয় করছে আবার গানও গাইছে ব্যাপারটা কঠিন বটে। টি-শার্টের সাথে জিন্স এই পোশাকের সার্বজনীন ব্যবহার করে চরিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টাও আমার কাছে কঠিন মনে হয়েছে। সফোক্লিসের পোশাক  ‘গাউন’ ধরনের কিছু হলে বোধয় আরও ভাল হতো।

মঞ্চে পরিবেশনের উপযুক্ত করে স্ক্রিপ্টটি গোছানো ছিল না। ডিটেইলিং এর অভাব ছিল অনেকগুলো জায়গায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে হেলেন চরিত্রটি। যা ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসেছে। এটি এই নাটকে আবির্ভাবের কিছুটা ব্যাকগ্রাউ- থাকলে ভাল হতো। এরকম আরও আছে। অনেকক্ষেত্রেই মনে হচ্ছিল, দৃশ্যের কোনো লিংক নেই। পুরো নাটক জুড়ে একটাই লিংকআপ রয়েছে তা হলো দর্শনগত। 

সব নাটক সবার জন্য না। যেমন সাহিত্যের সকল কিছু সবার জন্য না। যার যার ধারণ ক্ষমতা, সামর্থ্য অনুয়ায়ী সাহিত্যের রস আস্বাদন করতে পারবেন। আমি মনে করি, এই নাটক দেখিয়ে প্রচ্ছদ কুড়িগ্রামের দর্শকদের উপকারই করেছে। আর যা কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি তা ক্রমাগত রিহার্সেল আর পরবর্তী মঞ্চায়নে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু এই সব ত্রুটি নিয়েও, প্রচ্ছদের নাটক ভাল লেগেছে।

আয়োজনের তৃতীয় দিন দেখলাম কলকাতা থেকে আগত ‘মিউনাস’ (মিতালী-উৎসব নাট্য সংস্থা) এর নাটক ‘দূষণ’। এটির রচয়িতা ও নির্দেশক উৎসব দাস। এটি একটি খুনের গল্প, সন্ত্রাসের গল্প, প্রতিবাদের গল্প। এক লোক খুন হয়। সোনা নামের একটি কিশোরী চরিত্র সেই ঘটনা দেখে ফেলে। পরবর্তীতে সেই চরিত্রটি মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে শুরু করে। ডাক্তার আসে। চিকিৎসা চলে। এর মধ্যে লোক জানাজানি হয়। দেখা যায়, ঘটনার একমাত্র সাক্ষী সোনা। পুলিশ সোনার বাড়িতে আসে। তার বাবা মাকে জেরার পর জেরা করে হেনস্তা করে এবং শেষে দফারফা করার জন্য টাকা দাবি করে। এরপর এলাকার কাউন্সিলর আসে। সে পরামর্শ দেয় টাকা দিয়ে পুলিশের সাথে দফারফা করার। এভাবেই নাটক চলতে থাকে। শেষে বক্তব্য দেয়া হয়, এভাবে আর কতদিন চলবে? প্রতিবাদ করতে হবে। 

এইটা একটা সামাজিক সচেতনামূলক নাটক। ধরুন, এই দেশে টিআইবি বা আরডিআরএস বা জীবিকা ইত্যাদি এনজিও যেসব নাটক গ্রামগঞ্জে পরিবেশন করে জনগণকে সচেতন করার জন্য, এটি সেই ধরনের একটি নাটক। যান্ত্রিক সংগীতের বিকট আওয়াজ আর আলোর ব্যবহার নাটকটির জ্বলজ্বলে ব্যাপার। বিশেষত টেলিফোন বেজে ওঠার দৃশ্যে রিংটোনটি যতোটা উচ্চরবে বাজানো হয়েছিলো সে কথা মনে হলে এখনো ডিস্টার্ব বোধ করি। অবশ্য এটি আমার শব্দভীতির কারনেও হতে পারে। সেট ডিজাইন ও আনুষঙ্গিক বিষয় দেখে আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে ভাবছিলাম, এঁরা স্টার জলসা বা জি বাংলা ঘরানার সিরিয়ালের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেনি মঞ্চেও। পুরোটা সময় একবারও মনে হয়নি, মঞ্চনাটক দেখছি। বরং মনে হচ্ছিলো টিভি সেটের সামনে বসে ই-িয়ান সিরিয়াল দেখছি। অভিনয়ও ও-ই, সিরিয়ালের মতোই। কৃত্তিম সংগীত আর সেট বাদ দিলে ওটিতে আর কিছুই থাকে না। দে হ্যাভ নো ড্রামা। কয়েক বছর আগে যে কাজ দেখেছিলাম তাদের, সেখান থেকে কোনোরকম মানোন্নয়ন ঘটে নাই, ইহা দুঃখজনক। অথচ তাঁদের ওখানে তেপান্তর থিয়েটার, রতন থৈয়াম, গৌতম হালদার, প্রবীর গুহ এরকম আরও অনেক অনেক নাম বলা যাবে যাঁরা কী দারুণ কাজ করে চলেছেন মঞ্চনাটকে। ক্লাসিকের সাথে নানা রকম এক্সপেরিমেন্ট তো আছেই। বাঙলাদেশে জামিল আহমেদ, আশীষ খন্দকার প্রমূখ ব্যক্তিবর্গের কাজ যদি এনারা মনোযোগ দিয়ে দেখতেন তাহলেও হয়তো চিন্তাজগতে পরিবর্তন ঘটতো। আমি জানি না এঁরা সারাজীবন এসবই করে না কি বাঙলাদেশে আসার সময় এ ধরনের সিরিয়ালমার্কা নাটক নিয়ে আসে।

উৎসবের চতুর্থ দিন ছিলো বিশেষ আকর্ষণ সৈয়দ শামসুল হকের নাটক ‘চম্পাবতী’। ঢাকার ‘শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র’ পরিবেশিত এ নাটিকটির নির্দেশনা দিয়েছেন খোরশেদুল আলম। সাপের খেলা দেখানো বেদে দলকে ঘিরে এই নাটক। গয়া বাইদ্যার সুন্দরী রূপবতী স্ত্রীর নাম চম্পাবতী। নানা ঘাটে ঘুরতে ঘুরতে একসময় তারা নৌকা ভেড়ায় পদ্মার পাড়ে। এখানেই খেলা দেখানোর এক পর্যায়ে চম্পাবতীকে দ্যাখে গ্রামের মোড়ল। এবং চম্পাবতীর রূপে আকৃষ্ট হয়ে হরণ করতে চায়। বেদে দলকে সে বলে চম্পাবতীকে রেখে যেতে। গয়া বাইদ্যা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মোড়লের কথায়। বাধে সংঘর্ষ। মোড়ল তাদের উচ্ছেদ করে। চম্পাবতী সকলের জীবন রক্ষার্থে মোড়লের প্রস্তাবে রাজি হয়। বেদে সম্প্রদায় তাকে রেখেই চলে যায়। গয়া বাইদ্যা দলের আরেক নারী আসমানীর সাথে ঘর বাঁধে। বৈষ্ণবীর মাধ্যমে চম্পাবতী বেদে পরিবারের সকল খবর রাখতো। মোড়লের বাড়িতে অতি কষ্টে অবস্থান করলেও সে মোড়লের কু-প্রস্তাবে রাজি হয়নি কখনো। ফলে মোড়ল তার চুল কেটে দেয় এবং প্রহার করে। মোড়লের স্ত্রী এসব (নারী নির্যাতন ও সতীন তৈরি হবার আতঙ্ক) সহ্য করতে না পেরে চম্পাবতীকে পালাতে সাহায্য করে। চম্পাবতী বেদে বহরে ছুটে গিয়ে দ্যাখে গয়া বাইদ্যাকে সাপে কেটেছে। গয়া বাইদ্যার নতুন স্ত্রী আসমানী শত চেষ্টা করেও বিষ নামাতে পারছে না। চম্পাবতী গয়ার শরীরের বিষ মুখ দিয়ে তুলে নিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। বিষে নীল হয়ে যায় চম্পাবতী।

মঞ্চসজ্জা ভাল ছিল। আর সব থেকে ভাল লেগেছে লাইভ গানগুলো। যা আড়াল থেকে গাওয়া হচ্ছিলো। এটি দেখে মনে হয়েছে একটি মঞ্চনাটক দেখলাম। সৈয়দ হকের গল্পেই আসলে এটি পার পেয়ে গেছে। স্ক্রিপ্টের কারণে উৎরে যাওয়া নাটক। আলোর ব্যবহার ছিলো সুন্দর। শুধু একটা জায়গায় খটকা লেগেছে, সিঁদুর দেয়া বেদেনী বিপদে পড়ে আল্লাকে ডাকলো কেন! 

আমি যখন নাট্যেৎসবের প্রচারণায় শিলিগুড়ির নাট্যদলটির নাম দেখেছিলাম ‘সৃজনসেনা’, প্রথমে একটু ভয়ই পেয়েছিলাম। ওদিকে শিবসেনার জয়জয়কার কী না, তাই। হা হা হা। শেষ দিন ছিলো সেই সৃজনসেনার দুইটি নাটক। প্রথমটি ‘একুশে অঞ্জলি’ আর দ্বিতীয়টি ‘ম্যানিকুইন’। দুইটি নাটকের রচয়িতা ও নির্দেশক পার্থপ্রতিম মিত্র।

একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে ‘একুশে অঞ্জলি’ নাটকের বিস্তৃতি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতে চলে যাওয়া দুইজন মানুষ, যারা বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন, তাদের কেন্দ্র করেই এ নাটক। তারা একসময় প্রেমে ছিল- লড়াইয়ে ছিল- একুশে ফেব্রুয়ারির মিছিলে ছিলো- উদ্বাস্তু শিবিরে ছিলো। সজীব স্মৃতি-কঠোর বাস্তব-সংসারের আটপৌড়ে যাপন মিলেমিশে একুশে ফেব্রুয়ারিতে কেমন আছেন তারা? কী করেন তারা? এখন এখানেও কি লড়াই করতে হচ্ছে সেই ভাষারই জন্য? বৃদ্ধ, বৃদ্ধা এবং তাদের পুত্রবধূ, এই তিন সদস্যের একটি পরিবারের ভেতরে সেই লড়াই ফুটে উঠেছে।

এটিকে পথনাটক বলাই বোধহয় উচিত। অত্যন্ত স্বল্পাকৃতির এ নাটকে পুরনো বহুব্যবহারে জীর্ণ ডায়ালগ ব্যতীত বিশেষ কিছু কাজ ছিলো না। স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী প্রয়োজনও হয়তো ছিল না বিশেষ কোনও মঞ্চসজ্জা বা আলোর ব্যবহার ইত্যাদির। মঞ্চে একটি ঘরের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। 

এটির পরেই শুরু হয় নাটক ‘ম্যানিকুইন’। গল্পটি এরকম, ‘মা কালী বস্ত্রালয়’ নামে একটি দোকান ছিল, যেটি বিশ্বায়নের বাতাশে হয়ে ওঠে ‘মাইকেল শপিং মল’ আর বস্ত্রালয়ের মালিক সজনী দত্ত হয়ে গেল সজনে ডাটা। ঝলমলে সেই শপিং মলে প্রদর্শিত হয় চোখ ধাঁধানো মানব ম্যানিকুইন। গ্রাম থেকে আসা এক গরীব শিল্পী, যে আগে গ্রামের মেলায় ‘চ্যাপলিনের খেলা’ দেখাতো, পেট চালাতে এখানে চার্লি চ্যাপলিন সেজে দাঁড়িয়ে থাকে সকাল থেকে রাত অবধি। তাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ঘটনা প্রবাহ। অনেক অভাব-অনটনের মধ্যে যে চ্যাপলিন সংগ্রাম করেছে বেঁচে থাকার জন্য, সেই চ্যাপলিনকে মালিক ‘চোর’ বলে অপবাদ দেয়াটা সে কোনোভাবেই মানতে পারে না। এটাই শিল্পীর আত্মসম্মানবোধ। স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু প্রকাশ্যে মনে হয়, সে কারণেও তার কোনও দুঃখ নেই! কিন্তু চোর বলে অপমান করাটা কিছুতেই সহ্য করতে পারে না। ধনতন্ত্রের নর্তন-কুর্দন আস্ফালনে ম্যানিকুইন চ্যাপলিন পিষ্ট হয়। রিক্ত হয়। একসময় বেছে নেয় আত্মহননের পথ।

দারুণ এই গল্পটি দেখে খুব ভাল লেগেছে। দর্শনগত জায়গায় গল্পটিকে ইউনিক বলা না গেলেও, এই রকম একটি নাটক নিয়ে আসার জন্য সৃজনসেনা ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। চ্যাপলিনের অভিনয় খুবই ভাল লেগেছে। মঞ্চসজ্জা ছিল যথার্থ। মালিকের চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তিনিও ভালই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। কিছু ডায়ালগ মস্তিষ্কে স্থায়ী রয়ে যায়। মূল সাবজেক্টের বাইরে মঞ্চে অবজেক্টের আসা-যাওয়া নাটকটিকে আরও বেশি প্রস্ফুটিত করেছে। অবজেক্ট ক্যারেক্টার নাটকটিতে শুধু শপিং মলের আবহই ফুটিয়ে তোলেনি, পাশাপাশি সমাজে বিরাজমান আরও কিছু চরিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে।

দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ১ ও ২ জুলাই ২০১৯

দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ১ ও ২ জুলাই ২০১৯


মাথার উপরে ঘুরতে থাকা পাখা, তার সাথে নিজের দূরত্ব কমিয়ে নিলাম আজ। দূরত্ব কমলে ভালো লাগে। উপস্থিতির আনন্দ পাওয়া যায়।

পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘পদ্য পাগলের পাণ্ডুলিপি’ বইখানা থেকে দু’টো গদ্য পড়লাম। এই বইয়ের গদ্যগুলোর বৈঠকী ঢঙটা আমার ভালো লাগে। কখনো আছে ডায়েরী লেখার ধাঁচ। অনেক আগে এটি কিনেছিলাম। কিন্তু পড়ে শেষ করিনি। এই বই আমি শেষ করতে চাই না। চাই, এটি পড়তেই থাকি — পড়তেই থাকি, দীর্ঘদিন সময় নিয়ে। তাই মাঝে মাঝে যখন খুব ইচ্ছে করে, বইটি বের করি, এক/দুইটা গদ্য পড়ি, আবার যথাস্থানে রেখে দিই।

আট তারিখ আবারও যেতে হবে কারমাইকেল। বাজে অভিজ্ঞতা। অবশ্য একাডেমি মানেই বাজে অভিজ্ঞতা সম্ভবত বাঙলাদেশে। বিদেশের অবস্থা সর্বত্র এমন নয় বলেই জানি। ধরেন, সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তালিকা কে যেন করেছিলো, সেখানে তো বাঙলাদের অস্তিত্বই নাই, অথচ পাকিস্তান আছে! বোঝেন অবস্থা!

‘বিদেশ’ এর কথা বলতে মনে পড়লো, কবি নাভিল মানদারের একটা কবিতা পড়েছিলাম এবারের জঙশনে, সেখানে উনি একটা শব্দ ব্যবহার করেছেন ‘বিগ্রাম’। আমি বুঝতে পারিনি প্রথমে। পরে ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো, নিজ দেশের বাইরে হলে যেমন ‘বিদেশ’, তেমনই নিজ গ্রামের বাইরে হলে ‘বিগ্রাম’৷ দারুণ না ব্যাপারটা? কবির আবিষ্কার।

জুলাই আমার জন্য অন্য মানে রাখে। ‘তোমাকে’ শিরোনামে একটা সিরিজ কবিতা লিখেছিলাম, সম্ভবত চার বা পাঁচ খণ্ডে। তার প্রথমটিতে শেষ পংক্তিমালা এরকম, ‘জুলাইয়ের কোনও এক সকালে / আমি জন্ম নিলাম শব্দ থেকে / আর আমার সামনে উন্মোচিত / হলো পৃথিবীর প্রবেশদ্বার।’ পৃথিবীতে আমার জন্ম হয় ডিসেম্বরে। অথচ জুলাইয়েও শব্দ থেকে আমি জন্ম নিয়েছি দ্বিতীয়বার। মানুষ তো বারবার জন্ম লাভ করে, ভিন্ন ভিন্ন রূপে— ভিন্ন ভিন্ন দিনে!...


দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ৩ জুলাই ২০১৯

দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ৩ জুলাই ২০১৯


কাফকার জন্মদিন৷ কাফকার বই নিয়ে এদেশে ভালরকম বাণিজ্য করেছে একটা প্রতিষ্ঠান৷ প্রতিষ্ঠানের চরিত্রই এমন৷ শিল্পীর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে চতুর বাণিজ্য নতুন কিছু না৷ বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠানগুলো যুগে যুগে এটাই করেছে৷ শিল্পীর জীবদ্দশায় তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে নারাজ, সম্মান দেবে সেইসব তথাকথিক শিল্পী নামক ল্যাপডগকে, যারা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সব করতে পারে৷ আর প্রকৃত শিল্পীর মৃত্যুর পর শুরু হয় তাঁর লাশ নিয়ে বাণিজ্য৷ ‘রকস্টার’ নামে একটা সিনেমা দেখেছিলাম৷ সেখানে এক মিডিয়া হাউজের মালিক একজন রকস্টারের অ্যালবাম বের করে৷ রকস্টার একটা ব্যক্তিগত মামলায় জেলে যায়৷ তখন প্রডিউসার বলে, ‘আর্টিস্ট জেলের ভেতর৷ আর অ্যালবাম জেলের বাহিরে৷ এইটাই অ্যালবাম প্রকাশ করার মোক্ষম সময়৷ আর্টিস্টকে জেল থেকে বের করার দরকার নাই৷ ও জেলে থাকলে পাব্লিক অ্যালবাম বেশি খাবে৷…’

পহেলা আষাঢ় বিন্দুর ওয়েবসাইটে বর্ষার কবিতা প্রকাশ করে যখন ঘুমাতে গেলাম তখন সূর্য চলে এসেছে৷ ঘুম ভাঙলো দুপুরে৷ মোবাইল হাতে নিলাম৷ দেখি লিংকন ভাই মেসেজ করেছে, ‘ভাই তোর বর্ষার কবিতা পড়ে আমি অভিভূত৷ ঘুমাচ্ছিস জানি৷ ঘুম ভাঙলে কল দিস৷’ কল পরে দিলাম৷ তার আগে রিপ্লাই দিলাম, ‘অভিভূত হয়েছেন যেহেতু— চা খাওয়ান৷’ হা হা৷ জানি এটা সম্ভব নয়৷ দূরত্ব চারশত কিলোমিটারের৷ 

এক মধ্যবয়স্ক অনুবাদকের কবিতা পড়তেছিলাম৷ মনে হচ্ছিলো, অনুদিত কবিতাই পড়ছি৷ কী একটা অবস্থা!

‘মধ্যরাতের নোটবুক’ নামে একটা ‘না–কবিতা’ / ‘না–গদ্য’ লিখেছিলাম ২০১৬ এ৷ ২০১৭ এ জিললুর রহমানের লিটলম্যাগ ‘যদিও উত্তরমেঘ’ সেটার অনেকখানি প্রকাশ করে; এখন অনলাইনে সেটা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করতে শুরু করেছে অনলাইন লিটলম্যাগ ‘ওয়াকিং ডিসট্যান্স’৷ তারা হয়তো পুরোটা প্রকাশ করবে৷ কোনো একদিন এটা পুস্তকাকারে প্রকাশ করবার ইচ্ছে আছে৷

সারাদিন এত রোদ থাকে, বাইরের স্বাভাবিক কাজগুলো ঠিকমতো করা যায় না৷ তামিলনাড়ুতে লোকে আসবাবপত্র বিক্রি করে জল কিনছে! দিনাজপুরে ১৯টি পুকুর শুকিয়ে গেছে৷ কুয়েতে রৌদ্রতাপে গাড়ির গ্লাস গলে যাচ্ছে! আমার বাঙলাদেশকেও এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে৷ এখানে রৌদ্রতাপে মানুষের চামড়া গলে যাবে, শরীরের মাংস খুলে পড়বে৷
দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ৫ জুলাই ২০১৯

দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ৫ জুলাই ২০১৯


বুর্জোয়া মিডিয়াকে আমি অবিশ্বাস করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে, তখনও৷ (হুমায়ূন আজাদের প্রবচন স্মরণে রেখে)
.
চাইনিজের দোকানে গিয়েছিলাম চা খেতে৷ চাইনিজ আমাকে দেখিয়ে এক খদ্দেরকে বলছে, ‘আপনি পারবেন না বুঝছেন? আপনার হার্ট দুর্বল৷ খালি আপনার না আমজনতারই হার্ট দুর্বল৷ এই যে সাম্য দা আসছে৷ ইনি কবি; বুঝছেন? কবির হার্ট মজবুত৷ কড়া লিকার খাইতে খাইতে হার্ট মজবুত হইছে৷’ বলে ও হাসতে হাসতে আমাকে এক কাপ কড়া লিকার দিলো৷ আমি হতভম্ব হয়ে চায়ে চুমুক দিলাম৷ তারপর থেকে হাসতেছি৷

সৈয়দ হকের কবর বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিলো৷ উপরে টিনের চালা দেয়া দেয়া হলেছিলো বৃষ্টি ঠেকাতে৷ সেই বেড়া আর চালা দুমড়ে–মুচড়ে পড়ে আছে৷ এখনকার অবস্থা দেখে ইমতিয়াজ মাহমুদের ‘সব কবি মরে যায়’ কবিতাটির কথা মনে পড়ছে৷ যথার্থ কবিতাখানি৷

মনোসরণি ব্যাণ্ডের একটা গান আছে, ‘তোমাকে ছাড়া কি একা বাঁচা যায়, বলো একা বাঁচা যায় / তোমাকে ছাড়া কি বিপ্লব হয়, বলো বিপ্লব হয়৷’ এক সময় নিয়মিত শুনতাম৷ আজ বহুদিন বাদে ইউটিউব চোখের সামনে এনে দিলো৷ আবারও শুনলাম অনেকক্ষণ৷ মুয়ীয মাহফুজের কথা ও সুরে সুন্দর গান৷ আসলেই তো, তোমাকে ছাড়া কি… ৷ শহীদ কাদরীর জনপ্রিয় কবিতা ‘সংযোগ’, এটিকেও মুয়ীয মাহফুজ সুরারোপ করে গানে পরিণত করেছেন৷ ওটাও ভাল৷ ‘প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিকই / কিন্তু শান্তি খুঁজে পাবে না পাবে না পাবে না৷’

বাঙলাদেশের লিটলম্যাগ পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রবন্ধটি একদা লিখেছিলাম ‘বাঙলাদেশের লিটল ম্যাগাজিন: পাঠক কমেছে, পাঠক বেড়েছে’ শিরোনামে, সেটি আজ বিন্দুর ওয়েবসাইটে (bindumag.com) প্রকাশিত হলো৷ এই প্রবন্ধটি ভারতের সুমন সাধু লিখিয়ে নিয়েছিলেন তাঁদের লিটলম্যাগ ‘আঙ্গিক’ এর পাঠক সংখ্যার জন্য৷ পরে বাঙলাদেশে এটি লিটলম্যাগ ‘জঙশন’ এ প্রকাশ করি৷ কিন্তু লেখাটি অনলাইনে ছিলো না বলে কেউ কেউ এটি পড়তে চাইলে মুশকিল হয়ে যেত৷ আর তাছাড়া আমি নিজে থেকেও চাচ্ছিলাম লেখাটিকে কিছু পাঠকের মুখোমুখি করতে৷

দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ৬ জুলাই ২০১৭

দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ৬ জুলাই ২০১৭


আপনি কেন ‘মানুষ’ হলেন? আমি কেন ‘মানুষ’ হলাম! বাজারে কোনও দাম নাই! যদি ‘গরু’ হতাম, দাম থাকতো চল্লিশ হাজার৷ অন্তত ছাগল হওয়া যেত৷ তাতেও কিছু দাম থাকতো৷ ধরুন ছয় হাজার৷

বৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা করতে করতে বৃষ্টিকে পাওয়া গেল! উফ্ বিকেল থেকে ঠাণ্ডামতো আবহাওয়া৷ কী দারুণ! 
সৈয়দ হক অবশেষে দুই বান টিন পেলেন জেলা প্রশাসক মারফত৷ দেখলাম, কবর মেরামত করা হয়েছে তাঁর৷ বৃষ্টিতে ভেজা হলো না আপনার, হক সাহেব৷ মাথার উপরে এখন টিনের চালা৷

‘হলুদ পাহাড়’ দেখাবো এবার৷ দেখাবো তোমায় পঙ্ক্ষীরাজের ডানা৷ দেখাবো জোকার৷ হলুদ পাহাড়৷ শৈশবভর্তি গ্রাম৷ ফুলেল ধারনা৷ বিসর্জনের রাতে৷ হাওয়াবাগান৷ বিশেষ বাতাশ৷ আপি৷ কনফিউজড গোলাপ৷ আশ্রয়দাতা৷ ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার পর৷ অপার অজগর৷ গোলাপী আলোর শব্দ৷ মনোকম্পন৷ ক্রোধের দোযখ৷ বিষণ্ণ ছুটিবার৷ অন্ধ কুস্তিগীর৷ বানানবিভ্রাট৷ পতঙ্গডানা৷ জবাগাছ৷ আন্তঃনগর প্রেম৷ দেখাবো সব, দেড় ফর্মায়৷

প্রবন্ধ লেখা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর৷ প্রবন্ধ রচনা স্বাস্থ্যে কে লিয়ে হানিকারক হ্যায়৷ আর্টিকেল রাইটিং ইজ ইনজুরিয়াস টু হেলথ৷ তবুও লিখছি৷ জেনে শুনে বিষ করেছি পান৷ ঢক ঢক করে করতেছি পান৷ যেন, উপায় নাই গোলাম হোসেন৷ প্রবন্ধ তোমাকে লিখতেই হবে৷

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জুলাইয়ের সাত তারিখ বাম গণতান্ত্রিক জোটের আধবেলা হরতাল৷ ভোর ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত৷ আমি চাই তাদের হরতাল সফল হোক৷ দেশের এই দুর্দিনে এই এঁরাই তো তবু কিছু আওয়াজ ওঠাচ্ছে৷

দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ৭ জুলাই ২০১৯

দ্বীনহীনের দিনলিপি :: ৭ জুলাই ২০১৯


আর্থার কেনান ডয়েলের জন্মদিন৷ যখন হাই স্কুলে পড়ি, তখন তাঁর ‘শার্লক হোমস’ এ ডুবে ছিলাম। পরে আবার পড়েছি, আবার, আবার; অন্য রকম টেস্ট। বুঁদ করে রাখতো। কয়েক বছর আগেও, নন ফিকশন পড়তে পড়তে যখন একটু বিরতি দিতাম তখন শার্লক হোমস পড়তাম সেই বিরতির সময়টুকুতে। মাথাটা আবার যেন চাঙ্গা হয়ে যেত। ডয়েল, আপনাকে ভালোবাসি। আমার শৈশব–কৈশর আপনার মতো লেখকগণের কারণেই রঙিন–রোম্যান্টিক–উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো। বইয়ের প্রতি ভালোবাসা, সে তো আপনাদের কারণেই সূচনা।

ভাবছি পাঠ–প্রতিক্রিয়া প্রকাশ শুরু করবো আবার। অনেকগুলো কবিতার বই জমে গেছে যেগুলো পড়েছি, কিছু আছে পড়বো। সেগুলো কোনটা পড়ে কেমন লাগলো তা আবার প্রকাশ করতে শুরু করবো ফেসবুকে৷ গতবারের কাজটি যেমন ছিলো, তেমনই। তার আগে একটা গদ্য লিখবো ‘মার্কস যদি জানতেন’ বিষয়ে৷ এটা দিয়েই এবার প্রতিক্রিয়া লেখা আরম্ভ করবো। নিজের বই নিয়ে নিজে লেখার ব্যাপার৷ আমার কাছে এটি কবিতাপুস্তিকা হিসেবে কেমন, সেটি নিয়ে আলাপ করবো।

দুপুরের আগে আগে মনে হলো, বাম জোটের হরতাল (গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে) দেখে আসি কেমন হচ্ছে। সেই মতো বেরিয়ে কিছুদূর যেতেই বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি আর থামাথামি নাই। বুঝলাম হরতাল সফল হলো। বাড়ি ফিরে এলাম।

বাঙলাদেশে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক চোর-পুলিশের মতো

বাঙলাদেশে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক চোর-পুলিশের মতো


বাঙলাদেশে পরীক্ষাকেন্দ্রে ছাত্র–শিক্ষক এর সম্পর্কটা হলো চোর আর পুলিশের সম্পর্ক। ছাত্ররা চোর, শিক্ষকেরা পুলিশ। ছাত্ররা ধান্দায় থাকে কখন শিক্ষক নামের পুলিশ একটু চোখের আড়াল হবে আর ছাত্র চুরি করে নকল করতে পারবে। আর শিক্ষক থাকে পাহারায়, যেন ছাত্র নামক চোর কিছুতেই চুরি করতে না পারে। এটা হলো বাঙলাদেশের সাধারন অবস্থা। কিন্তু এর মধ্যে একটা হাড্ডিখিজির আছে, সেটা হলো ছাত্রলীগ। শিক্ষক অবশ্য এখন ভয়ে থাকে, না জানি কোথায় কোন লীগের হয়ে মেরে দেয়। তাই তারা আগেভাগে খোঁজ নিয়ে রাখে পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো লীগার আছে কী না। লীগার ব্যতীত অন্যদের সাথে শুরু হয় চোর পুলিশ খেলা। এখানে সাধারনত পরীক্ষার্থী সিভিলিয়ানদের কোনো সম্মানবোধ নাই, তারা ব্যাসিকালি চোর হিসেবে গড়ে উঠেছে, এই শিক্ষাব্যবস্থা তাদের চুরি করতে শিখিয়েছে।

এইসব দেখে দেখে আমার মনে হচ্ছে শিক্ষকের পরিবর্তে পরীক্ষাকেন্দ্রের ডিউটিতে আর্মি–পুলিশ–ব়্যাব দায়িত্বে থাকলেই মনে হয় ভাল হতো। পুলিশের দায়িত্ব আর শিক্ষককে পালন করার দরকার নাই। ধরেন ব়্যাব বন্দুক হাতে ডিউটি করবে। কেউ নকল করতে ধরলে ডাইরেক্ট ফায়ার। পরদিন পত্রিকায় খবর, নকল করার সময় ক্রসফায়ারে এক ছাত্র নিহত…