Previous
Next

সর্বশেষ

পুলিশী রাষ্ট্রের স্বরূপ

পুলিশী রাষ্ট্রের স্বরূপ

ক) বই প্রকাশ করবেন?
— বইমেলায় গিয়ে সেই বই পুলিশ চেক করবে৷

খ) সভা-সমাবেশ করবেন?
— পুলিশের কাছে অনুমতি নিতে হবে৷

গ) রাস্তায় বের হবেন?
— পুলিশের কাছে মুভমেন্ট পাস নিতে হবে৷

ঘ) চুল বড় রাখবেন?
— পুলিশ ধরে চুল কেটে দিবে৷

ঙ) পার্কে বসে গল্প করবেন?
— পুলিশ ধরে হয়রানি করবে৷

(চ) থেকে (ঁঁ) পর্যন্ত নিজেরা বসিয়ে নিন…

৩ মে ২০২১
পকেটভর্তি টাকা আর মগজভর্তি অশিক্ষা-লালসা

পকেটভর্তি টাকা আর মগজভর্তি অশিক্ষা-লালসা

পকেটভর্তি টাকা আর মগজভর্তি অশিক্ষা-লালসা হলে কী কী হতে পারে তা আমরা বাঙলাদেশের পুঁজিপতিদের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি৷ এরা শুধু টাকা বানানো বোঝে৷ যে কোনো মূল্যে, যে কোনকিছুর বিনিময়ে টাকা বানাতে হবে৷ ফলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ এদের কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে, আর রেস্টুরেন্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে৷ উদ্যানের গাছ কেটে সাবার করে ফেলতেছে সাতটা রেস্টুরেন্ট বানিয়ে টাকা কামানোর ধান্দায়! এরা হলো সেই বুর্জোয়া, যারা বাঙলাদেশকে জাহান্নাম বানিয়ে মালেশিয়া/অস্ট্রেলিয়ায় সেকেণ্ড হোম বানায়, অসুস্থ হলে সিঙ্গাপুর দৌঁড়ায়৷

৪ মে ২০২১
পাবলিককে ভিলেন বানাইয়েন না

পাবলিককে ভিলেন বানাইয়েন না


লকডাউন বা এ সংক্রান্ত ইস্যুতে মিডিয়া ও ভার্চুয়াল সিভিল সোসাইটি সমন্বিতভাবে পাবলিককে ভিলেন বানাচ্ছে! হাজার হাজার মানুষ বাড়ি যাচ্ছে এইটা তাদের দোষ না৷ আপনি যেমন ভালো থাকতে চান, দুনিয়ার প্রতিটি মানুষ তেমন ভালো থাকতে চায়, সুস্থ থাকতে চায়৷ কিন্তু যার যার বাস্তবতা অনুযায়ী ভালো থাকার তরিকা আলাদা৷ সবাইকে এক তরিকায় বিচার করলে চলবে না৷ আপনার ঘরে থাকার উপাদান বিদ্যমান, ঘরে থাকেন৷ লকডাউন উপেক্ষা করে মানুষজন বাইরে যাচ্ছে কেন এই প্রশ্নের উত্তর সহজ৷ মানুষের ঘরে থাকার পর্যাপ্ত আয়োজন কেন সরকার করে নাই এই প্রশ্ন সরকারকে করেন৷ মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে পাবলিক ঢাকা ছাড়তেছে এইটা পাবলিকের ‘দোষ’ না৷ এইটা তাদের নিরুপায় সিদ্ধান্ত৷ পাবলিকের ক্রাইসিসকে বোঝার চেষ্টা করেন, এবং তার সমাধান নিয়ে চিন্তা করেন৷ পাবলিককে ভিলেন বানাইয়েন না৷

০৯ মে ২০২১
শাটডাউন, লকডাউন না কি এন্টিভাইরাস ইনস্টল? কোনটা দরকার?

শাটডাউন, লকডাউন না কি এন্টিভাইরাস ইনস্টল? কোনটা দরকার?


জমিদারপুত্ররা পরামর্শ দিচ্ছে দেশটা শাটডাউন করে দিতে৷ বাঙলাদেশের যে অর্থনৈতিক অবস্থা তাতে দুই সপ্তাহ শাটডাউন রাখলে পাবলিকের কী অবস্থা হবে এইটা জমিদারপুত্রদের মাথায় নেই৷ থাকার কথাও না৷ তাদের এসব ভাবনার প্রয়োজন নেই৷ তারা আছে নিজের চিন্তায়৷ ভাবুন তো, দুই সপ্তাহ পর কি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? দেশ করোনামুক্ত হবে? হবে না নিশ্চয়ই৷ করোনা পরিস্থিতিতেই আমাদের মুভ করতে হবে, আমরা যারা জমিদারপুত্র নই৷ পাবলিকের দুর্ভোগ নিয়ে চিন্তা করার তাদের সময় কই? দুই বছর ধরে নানা স্টাইলে চলা লকডাউনে দেশের গরীব মানুষ কর্মহীন হয়ে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে অতি কষ্টে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থায় বেঁচে আছে৷ এই মুহূর্তে জমিদারপুত্ররা আসছেন শাটডাউনের তদবির নিয়ে! এইটা সার্বিকভাবে, চোরের উপর রাগ করে কলার পাতায় ভাত খাইতে বলার মতো পরামর্শ! অথচ কথা বলা দরকার স্বাস্থ্যখাত নিয়ে, অক্সিজেন, মাস্ক নিশ্চিত করা নিয়ে৷ কিন্তু হায়, সেসব নিশ্চিত করার খবর নাই, করোনা মোকাবিলায় অধিকতর কার্যকরী আইডিয়ার কোনো খবরই নাই!

২৪ জুন ২০২১
যার বিপ্লব তাকেই করতে হয়

যার বিপ্লব তাকেই করতে হয়


যার বিপ্লব তাকেই করতে হয়৷ যোগীকেই যোগীর ভূমিকায় থাকতে হয়, অন্যরা যোগী নয়, সহযোগী৷ কিন্তু সহযোগীকে যদি যোগীর পাট দেয়া হয়, তাহলে কেমন হবে? যোগীর বিপ্লব শতবর্ষ পিছিয়ে যাবে, গাড্ডায়ও পতিত হতে পারে৷ আমার এলাকায় একটা রাজনৈতিক দল দেখতাম, লোক মোটে নয়জন, একেকদিন একেক সংগঠনের ব্যানার নিয়ে মিছিল করতো৷ কোনোদিন শ্রমিক সাজতো, কোনোদিন কৃষক, কোনোদিন রিকশাঅলা, কোনোদিন ছাত্র, কোনোদিন শিশু-কিশোর এরকম আরো কত কী! মানে যখন যা দরকার আরকি৷ এভাবে তারা অভিনয় শিল্পে দক্ষতা অর্জন করেছিলো৷ বাচিক শিল্পী হিসেবে নাম করেছিলো৷

বাঙলাদেশের নানা ক্ষেত্রেই এই প্র্যাকটিসটা দেখা যায়৷ যার বিপ্লব সে নিজে তা না করে অন্যকে দিয়ে করাতে চায়৷ যখন তা পারা যায় না, মানে উদ্দেশ্য সফল হয় না, তখনই ঝামেলাটা শুরু হয়৷
[ডায়েরী থেকে]
পাবলিক বিরোধী ক্ষমতার লীলাঃ লাঠি দিয়ে করোনা মোকাবিলা!

পাবলিক বিরোধী ক্ষমতার লীলাঃ লাঠি দিয়ে করোনা মোকাবিলা!


— অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা যাচ্ছে৷ সমাধান কী?
: পাবলিক কেন বাইরে, পিটায়া ঘরে ঢোকাও৷

— প্যারাসিটামল মার্কেটে নাই৷ উধাও! কী করবো?
: পাবলিক কেন বাইরে, পিটায়া ঘরে ঢোকাও৷

— কাজ আর খাবারের অভাবে লোকে আত্মহত্যা করতেছে, পত্রিকায় দেখলাম৷ সত্য না কি?
: পাবলিক কেন বাইরে, পিটায়া ঘরে ঢোকাও৷

— ভারত, পাকিস্তান, ইরান এরাও তো নিজ দেশে ভ্যাকসিন বানাচ্ছে৷ বাঙলাদেশ ভ্যাকসিন বানানোর উদ্যোগ না নিয়ে দালাল ধরে কমিশন বাণিজ্য চালাচ্ছে! এখন কী হবে?
: অইসব পরে হবে৷ আগে বলো পাবলিক কেন বাইরে, পিটায়া ঘরে ঢোকাও সবগুলাকে৷

৫ জুলাই ২০২১
Justice for Porimoni

Justice for Porimoni


অভিনয়শিল্পী পরীমনির সাথে এই পর্যন্ত যা হয়েছে— হচ্ছে, তাকে জাস্টিস বলে? তাকে যে প্রক্রিয়ায় আটক করা হয়েছে তাকে জাস্টিস বলে? মামলা করার পর বারবার রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করাকে জাস্টিস বলে? ক্রমাগত সাইবার হয়রানীর দিকে ঠেলে দেয়াকে জাস্টিস বলে?

সুনামের অধিকার তো আমাদের দেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এই শিল্পীর সেই অধিকার রক্ষা করা তো সরকারেরই দায়িত্ব।

মামলা করেছেন, মামলা চলুক। তদন্ত হোক। তদন্তে যখনই প্রয়োজন হয় পরীমনিকে তাঁর গৃহে বা অন্য যে কোন জায়গায় তাঁর উকিলের সামনে প্রশ্ন করতে পারেন। কিন্তু আটকে রেখে রিমান্ডের নামে হয়রানী করছেন কেন?

পাবলিকের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারা কোত্থেকে আসে?

পাবলিকের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারা কোত্থেকে আসে?

‘Good news’ by: Pawel Kuczynski

এদেশে কোনো বাজে ঘটনা ঘটার পর ভাইরাল হলেই আমরা দেখি দলে দলে পাবলিক অনলাইনে এবং অফলাইনে (চায়ের দোকানে কিংবা গলির মোড়ে) সেই ঘটনায় ভিকটিমকে ব্লেইম করছে কিংবা এমন মন্তব্য করছে যা অনেকক্ষেত্রেই অসভ্য, বর্বর৷ প্রশ্ন হলো পাবলিকের এই ধরনের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারা কি আকাশ থেকে টুপ করে পড়ে? না কি তারা এইসব চিন্তা মাথা খাটিয়ে তৈরি করে? তাদের জাজমেন্টাল বক্তব্যগুলো কেন ‘পাওয়ার’ এর পক্ষে যায়?

এর কারন একটাই৷ তাদের সকল পশ্চাৎপদ চিন্তাধারা ‘ভিত্তিহীন’ নয়৷ এগুলোর ‘ভিত্তি’ রয়েছে৷ যে ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে তারা জাজমেন্টাল বক্তব্য প্রদান করেন৷ এই ‘ভিত্তি’ কখনো আইন, কখনো প্রথা, কখনো অন্য কিছু৷ আর এই পশ্চাৎপদ চিন্তার ভিত্তি তৈরি করে দেয় রাষ্ট্র৷

যেমন ধরুন, কোনো নারী ধর্ষিত হলে পাবলিক দোষীর শাস্তি নিয়ে যতোটা না সোচ্চার হয় তার অধিক আলোচনা করে (প্রশ্ন তোলে) ভিক্টিমের চরিত্র নিয়ে৷ পাবলিকের এহেন ‘ভিক্টিম ব্লেইমিং’ এর ভিত্তি হলো আইন৷ বাঙলাদেশে ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে প্রমাণ আইনের ১৫৫ নং অনুচ্ছেদের একটি উপধারা অনুযায়ী, আদালতে ভিক্টিমের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে৷ এই আইন মোতাবেক, একজন পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এলে অভিযোগকারী নারীর ‘চরিত্র’ বিচার করে তার ওপর ধর্ষণ হওয়া যে ‘ন্যায্য’ তা প্রমাণ করার সুযোগ থাকে! এটাই হলো পাবলিকের ভিক্টিম ব্লেইমিং এর ভিত্তি৷ এরকম আরো অনেক ‘ভিত্তি’র উদাহরণ দেয়া যায়৷ আপনারা একটু মাথা খাটালেই অনেক ‘ভিত্তি’ আবিষ্কার করে ফেলতে পারবেন৷

বাঙলাদেশের মতো গুণ্ডাতান্ত্রিক রাষ্ট্র করে কি, নিজস্বার্থে এইসব ‘ভিত্তি’ তৈরি করে এবং পেট্রোনাইজ করে৷ আর এইসকল ভিত্তির সাথে পাবলিক এটাচমেন্ট তৈরির কাজটা করে মিডিয়া৷ আপনি খেয়াল করবেন, পাবলিকের ভিক্টিম ব্লেইমিং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমূহ উপাদান সাপ্লাই দেয় মিডিয়া৷ কারণ মিডিয়া যখন সোসাইটির ওয়াচডগ না হয়ে রাষ্ট্রের ল্যাপডগ (কোলের কুত্তা) হয়ে যায়, তখন মিডিয়ার একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে গুণ্ডাতন্ত্রের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন৷ আর সে তার সকল উপায়গুলো সেই কাজেই ব্যবহার করে৷ ফলস্বরূপ আমরা দেখি, মিডিয়া আর সংবাদ পরিবেশন করে না বরং সে নিজেই জাজমেন্টাল হয়ে ওঠে এবং পাবলিককে উস্কাতে থাকে৷ আর এই উস্কানির ফল আমরা দেখি অনলাইনে পাবলিক কমেন্টে কিংবা গলির মুখে চায়ের দোকানে৷

ফলে, এহেন পশ্চাৎপদ চিন্তাধারার জন্য আপনি যদি পাবলিককেই দায়ী কিংবা ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত করেন, সেটাও ভুল হবে৷ কেননা এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, গুণ্ডাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পাবলিক নিজেই ভিক্টিম৷ এইদশা থেকে উত্তরণ চাইলে এর উৎসমূল ধ্বংস করতে হবে, যেখান থেকে পাবলিকের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারা জন্ম নেয়৷

— সাম্য রাইয়ান

বরই পাতার দেশ

বরই পাতার দেশ

 
অসুস্থ ভোরের মুখে দাঁড়িয়ে
ভাবি, কার কাছে যাবো!
বরই পাতার দেশ, উপ-দেশ
                           এ কেমন ঝরনাধারা?

জ্বরের মূর্ছনা! ভোর থেকে রাত৷

কবরভূমিতে দাঁড়িয়ে
থাকে, অন্ধকার ফলানো
                          চুপচাপ গাছ৷

মরহুম পাতাগুলি শুধু
আটকে থাকে জীবনের পরে৷
সহজ বেদনা নিয়ে
অর্ঘ্যডালা জাগে
জ্বরের মৌনতা ভেদ করে৷



কবর দেখতে দেখতে

কবর দেখতে দেখতে

 
 
পৃথিবীর পথে রয়েছে অগণিত রেখা৷
বেলা শেষ;     বোনের কবরের পাশে
মোমবাতি হাতে দাঁড়াবে বিষণ্ন মেয়ে৷
বেলা উ ঠ ছে৷ বেলা না ম ছে
দূরের বৈঠকখানায় কুচকাওয়াজ
আমার চিবুক থেকে উড়ে যাচ্ছে
                       কয়েকটি যুদ্ধবিমান…